রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের বিশাল জয়: পেলেন ২৫৫ ভোট, অলি আহমেদের ৮৮

জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোটাভুটি শেষে তিনি ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিশাল জয় অর্জন করেন। অন্যদিকে, তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালট পেপারে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর প্রদান করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নির্ধারিত আলাদা আসনে বসে ভোট দেন। নিজে সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পান। তবে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না থাকায় তিনি ভোট দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের পরই মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষিত হবে।

ভোটাভুটি চলাকালে সংসদ কক্ষে পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় সংসদে অবস্থান করে দলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

নির্বাচন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, 'দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলো। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় নতুন সূচনা করল।' তবে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, 'সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা না থাকলে এবং এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটির সম্মান ও নিরপেক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেত।'

সব মিলিয়ে একটি উৎসবমুখর ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments