যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দ্রুত আইনের দাবি মহিলা পরিষদের: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর কমিটির আহ্বান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। হাইকোর্টের ২০০৯ সালের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ আইন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। একইসঙ্গে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে ‘অভিযোগ কমিটি’ দ্রুত কার্যকর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলে সংগঠনটি। ‘উত্ত্যক্তকরণ, যৌন নিপীড়নকে না বলুন, ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে যৌন হয়রানি নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। আইনি সুরক্ষার অভাবে প্রতিনিয়ত বহু নারী মানসিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে পড়াশোনা কিংবা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, যা মানবাধিকার ও নারী মর্যাদার চরম লঙ্ঘন। রাষ্ট্রকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনার পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও অ্যাডভোকেসি চলছে। খসড়া নীতিগত অনুমোদন পেলেও তা এখনো চূড়ান্ত আইনে রূপ নেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা সালমা আলী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়নি, আর যেখানে আছে সেখানেও জবাবদিহি নেই। ব্লাস্টের পরিচালক মাহাবুবা আক্তার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী সেলিনা আক্তার অভিযোগ কমিটিগুলোর সঠিক মনিটরিং ও বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিলের আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর জোর দেন। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, নাগরিক সমাজের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি ও মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যেকোনো নিপীড়ন বা হয়রানি সমাজের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধপ্রবণতার লক্ষণ। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বিদ্যমান দণ্ডবিধিতে যৌন হয়রানির আধুনিক সংজ্ঞা নির্ধারণ, পাঠ্যসূচিতে প্রতিরোধমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকার দাবি জানানো হয়।

Post a Comment

0 Comments