নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচন: আব্বাসের বিরুদ্ধে বড় জোট গঠনের দৌড়ঝাঁপে হামাস ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলো

দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিলিস্তিনের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে মেরুকরণের নতুন হাওয়া। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন শাসকদল 'ফাতাহ্' সরকারের বিরোধিতাকারী হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলো একটি বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। আগামী নভেম্বরে প্রস্তাবিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে কৌশলগত বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।

হামাসের জাতীয় সম্পর্ক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুসাম বদরান আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও যৌথ আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি), ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ এবং ফাতাহ্‌ থেকে বেরিয়ে যাওয়া মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন 'ডেমোক্রেটিক রিফর্ম' আন্দোলন। অথচ একসময় দাহলান ও তার গোষ্ঠী হামাসের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইসরায়েলের কোনো আপত্তি বা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই হামাস নির্বাচনে অংশ নিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান বদরান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমাদের মৌলিক অধিকার, এর জন্য আমাদের কোনো পক্ষের অনুমিত বা গ্যারান্টির প্রয়োজন নেই।"

গত ৯ জুলাই এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। ২০০৬ সালের জানুয়ারির পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো জাতীয় ভোটগ্রহণ। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, দখলীকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং পূর্ব জেরুজালেমে নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ৬ নভেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরুর কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, মাহমুদ আব্বাসের মূল দল ফাতাহ্ একা লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফাতাহর মুখপাত্র মুনজের আল-হায়েক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা হামাসের সঙ্গে কোনো যৌথ তালিকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, তবে অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট বাঁধার পথ এখনও খোলা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের জোটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্বাসিত সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান। একসময় হামাসের চরম শত্রু হলেও, মাহমুদ আব্বাসের প্রতি চরম অসন্তোষ তাদের দু'পক্ষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। এছাড়া বিরোধী দলগুলোর সংলাপে বারবার উঠে আসছে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারগুতির নাম। সম্ভাব্য প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে বারগুতিকে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী করার বিষয়েও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্সিয়াল রেসে মাহমুদ আব্বাস মাত্র ১৪ শতাংশ সমর্থন পেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। যেখানে কারাবন্দি মারওয়ান বারগুতি ৫৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সবার শীর্ষে এবং হামাসের খলিল আল-হাইয়া ২৬ শতাংশ সমর্থন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ পথচলা ফিলিস্তিনের চিরাচরিত রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

Post a Comment

0 Comments