
আর্জেন্টিনার ইতিহাস তথা বিশ্ব রাজনীতির এক পরম বিস্ময় ইভা পেরন, যাকে দেশটির মানুষ ভালোবেসে 'ইভিটা' বলে ডাকত। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই জনপ্রিয় ফার্স্ট লেডির। তবে মৃত্যুর পরও শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হয়ে মৃত্যুর তিন বছর পর চুরি হয়ে যায় তার মমিকৃত মরদেহ। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ১৬ বছরের এক রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর যাত্রা, যা শেষ পর্যন্ত তাকে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে আনে।
১৯৫২ সালের ২৬শে জুলাই ইভা পেরনের মৃত্যুর পরপরই স্প্যানিশ ব্যবচ্ছেদবিদ ডক্টর পেদ্রো আরা তার মরদেহ বিশেষ উপায়ে সংরক্ষণ (এমবামিং) করেন। প্যারাফিন ও গ্লিসারিনের বিশেষ কৌশল ব্যবহার করায় ইভিটার শরীর এমনভাবে তাজা ছিল, যেন মনে হতো তিনি ঘুমিয়ে আছেন। শ্রমজীবী মানুষের কাছে অসামান্য জনপ্রিয় এই নারী রূপ নিয়েছিলেন 'পেরনিজম' নামক রাজনৈতিক মতাদর্শের এক শক্তিশালী প্রতীকে। তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন স্ত্রীর এই জনপ্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন হুয়ান পেরন। ক্ষমতায় আসা সামরিক জান্তা পেরনিজমের সব প্রতীক মুছে ফেলতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা ভয় পেয়েছিল, ইভিটার মরদেহ হয়তো তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। ফলে বুয়েনস আইরেসের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে কাচের কফিনে রাখা মরদেহটি চুরি করে সেনাবাহিনী।
এরপর ইভিটার মরদেহের ওপর শুরু হয় অদ্ভুত সব নির্যাতন। সেনা গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কার্লোস মুরি কেনিগ মরদেহটি নিয়ে শহরের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন। কখনো রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানে, কখনো সিনেমা হলের পর্দার পেছনে, আবার কখনো পাম্প হাউসে রাখা হতো সেই কফিন। প্রচলিত আছে, মরদেহের পাহাদার কেনিগ একসময় মমিকৃত এই লাশের প্রতি মানসিক আসক্তিতেও ভুগতে শুরু করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে 'মারিয়া মাজ্জি দে মাজিজত্রিস' নামের এক ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ইভিটার মরদেহ গোপনে ইতালির মিলানে নিয়ে গিয়ে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনায় ইভিটার সমর্থকরা তাকে ভুলেনি। শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার উঠত— "ইভা পেরনের মরদেহ কোথায়?"
অবশেষে ১৯৭১ সালে নতুন সামরিক সরকার পেরনপন্থিদের শান্ত করতে স্পেনের মাদ্রিদে নির্বাসনে থাকা হুয়ান পেরনের কাছে রূপালী কফিনে করে ইভিটার মরদেহ ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে হুয়ান পেরনের মৃত্যুর পর মরদেহটি আবারও বুয়েনস আইরেসে ফিরিয়ে আনা হয়। শিল্পী দোমিঙ্গো তেইয়েচিয়া নানা হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরদেহের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করেন।
সবশেষে ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে অত্যন্ত গোপনীয়তায় ইভা পেরনকে বুয়েনস আইরেসের 'রেকোলেতা' সমাধিক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করা হয়। আবার যেন কখনো চুরি না হয়, সেজন্য মার্বেল পাথরের তৈরি সেই সমাধিগৃহে ভূগর্ভস্থ একাধিক গোপন দরজা ও অত্যন্ত শক্ত ভল্ট ব্যবহার করে তার মরদেহ নিরাপদ করা হয়। মৃত্যুর সাড়ে চার দশক পরও ইভা পেরন এবং তার মরদেহের এই দীর্ঘ যাত্রা বিশ্ব ইতিহাসে এক ট্র্যাজিক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
১৯৫২ সালের ২৬শে জুলাই ইভা পেরনের মৃত্যুর পরপরই স্প্যানিশ ব্যবচ্ছেদবিদ ডক্টর পেদ্রো আরা তার মরদেহ বিশেষ উপায়ে সংরক্ষণ (এমবামিং) করেন। প্যারাফিন ও গ্লিসারিনের বিশেষ কৌশল ব্যবহার করায় ইভিটার শরীর এমনভাবে তাজা ছিল, যেন মনে হতো তিনি ঘুমিয়ে আছেন। শ্রমজীবী মানুষের কাছে অসামান্য জনপ্রিয় এই নারী রূপ নিয়েছিলেন 'পেরনিজম' নামক রাজনৈতিক মতাদর্শের এক শক্তিশালী প্রতীকে। তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন স্ত্রীর এই জনপ্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন হুয়ান পেরন। ক্ষমতায় আসা সামরিক জান্তা পেরনিজমের সব প্রতীক মুছে ফেলতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা ভয় পেয়েছিল, ইভিটার মরদেহ হয়তো তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। ফলে বুয়েনস আইরেসের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে কাচের কফিনে রাখা মরদেহটি চুরি করে সেনাবাহিনী।
এরপর ইভিটার মরদেহের ওপর শুরু হয় অদ্ভুত সব নির্যাতন। সেনা গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কার্লোস মুরি কেনিগ মরদেহটি নিয়ে শহরের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন। কখনো রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানে, কখনো সিনেমা হলের পর্দার পেছনে, আবার কখনো পাম্প হাউসে রাখা হতো সেই কফিন। প্রচলিত আছে, মরদেহের পাহাদার কেনিগ একসময় মমিকৃত এই লাশের প্রতি মানসিক আসক্তিতেও ভুগতে শুরু করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে 'মারিয়া মাজ্জি দে মাজিজত্রিস' নামের এক ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ইভিটার মরদেহ গোপনে ইতালির মিলানে নিয়ে গিয়ে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনায় ইভিটার সমর্থকরা তাকে ভুলেনি। শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার উঠত— "ইভা পেরনের মরদেহ কোথায়?"
অবশেষে ১৯৭১ সালে নতুন সামরিক সরকার পেরনপন্থিদের শান্ত করতে স্পেনের মাদ্রিদে নির্বাসনে থাকা হুয়ান পেরনের কাছে রূপালী কফিনে করে ইভিটার মরদেহ ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে হুয়ান পেরনের মৃত্যুর পর মরদেহটি আবারও বুয়েনস আইরেসে ফিরিয়ে আনা হয়। শিল্পী দোমিঙ্গো তেইয়েচিয়া নানা হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরদেহের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করেন।
সবশেষে ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে অত্যন্ত গোপনীয়তায় ইভা পেরনকে বুয়েনস আইরেসের 'রেকোলেতা' সমাধিক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করা হয়। আবার যেন কখনো চুরি না হয়, সেজন্য মার্বেল পাথরের তৈরি সেই সমাধিগৃহে ভূগর্ভস্থ একাধিক গোপন দরজা ও অত্যন্ত শক্ত ভল্ট ব্যবহার করে তার মরদেহ নিরাপদ করা হয়। মৃত্যুর সাড়ে চার দশক পরও ইভা পেরন এবং তার মরদেহের এই দীর্ঘ যাত্রা বিশ্ব ইতিহাসে এক ট্র্যাজিক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

0 Comments