ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলে হামলার হুমকি: কূটনৈতিক পাড়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

রাজধানী ঢাকার বারিধারায় অবস্থিত একটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একটি নিষিদ্ধ বা উগ্রবাদী সংগঠনের নামে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অপ্রত্যাশিত এই হুমকির পর রাজধানীর ডিপ্লোমেটিক জোনসহ সকল বিদেশি দূতাবাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও জোরদার তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের অফিশিয়াল ই-মেইল আইডিতে একটি হুমকিবার্তা আসে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর এবং পুলিশের অপরাধ দমনে বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে অবহিত করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে বারিধারায় অবস্থিত ওই দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন সিটিটিসি ও পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি (ল অ্যান্ড অর্ডার অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স চালনা) শাখার কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন বিদেশি নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিরাপত্তার সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয় এবং দূতাবাসের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছি। কোন নির্দিষ্ট উগ্রবাদী সংগঠন থেকে এই ই-মেইল পাঠানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে আমাদের ডিজিটাল মনিটরিং ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক সময় বিভ্রান্তি ছড়াতে 'স্ক্যাম মেইল'ও পাঠানো হয়, তাই সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

দূতাবাসের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় 'ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ' সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে এবং তারা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা টহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কেবল সংশ্লিষ্ট দূতাবাসই নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো গুলশান-বারিধারা কূটনৈতিক পাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে ই-মেইলটির আইপি অ্যাড্রেস ও প্রেরকের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট।

Post a Comment

0 Comments