সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি এ কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জার মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ব্যস্ত জীবনে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তিনি স্বামী হেনরি কিসিঞ্জারের পাশে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ কেন্টে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যান্সি কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

হেনরি কিসিঞ্জার ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তাঁকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন কূটনীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ ও বৈশ্বিক বিষয়ে যথেষ্ট জানাশোনা থাকা ন্যান্সি কিসিঞ্জার স্বামীর সুনাম রক্ষায় অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। ১৯৭৪ সালে বিয়ের পর তিনি হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিক সফরে বিশ্বের নানা দেশে ভ্রমণ করেন।

১৯৭৭ সালে হেনরি কিসিঞ্জার দায়িত্ব ছাড়ার পরও ওয়াশিংটনের অন্যতম সুপরিচিত দম্পতি হয়ে ওঠেন তাঁরা। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, বিভিন্ন দূতাবাসের অনুষ্ঠান এবং রিপাবলিকানদের হোয়াইট হাউসের সংবর্ধনায় তাঁদের নিয়মিত দেখা যেত।

কিসিঞ্জার দম্পতি নিউইয়র্ক শহরেও বেশ পরিচিত ছিলেন। তাঁদের মূল বাসভবন ছিল নিউইয়র্কে। সেখানে জাদুঘরের উদ্বোধন, বিল ব্লাস (মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার) ও অস্কার দে লা রেন্তার (ডোমিনিকান-মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার) ফ্যাশন শো এবং বিভিন্ন দাতব্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে তাঁরা অংশ নিতেন।

১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে সামাজিক ব্যস্ততা কমিয়ে অবসর কাটাতে থাকেন এই দম্পতি। সাউথ কেন্টে তাঁদের ৩০০ একরের একটি বাড়ি আছে। গ্রীষ্মকাল ও সাপ্তাহিক ছুটি তাঁরা সেখানে কাটাতেন।

বিয়ের পর এক বন্ধু দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, ‘যাঁরা তাঁকে ভালোভাবে চেনেন, তাঁদের কাছে মিসেস কিসিঞ্জার একজন বুদ্ধিমতী, দক্ষ ও আন্তরিক নারী। তাঁর মধ্যে দারুণ আকর্ষণ ও ভালো রসবোধ ছিল। সততার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন।’

এর মানে এই নয় যে ন্যান্সি কিসিঞ্জারের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত ছিল। এর কিছুটা তাঁর স্বামীর বিতর্কিত ভাবমূর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

Post a Comment

0 Comments