ভেনিজুয়েলার মোট তেল উৎপাদনের অর্ধেকই যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে: মার্কিন কর্মকর্তা

ভেনিজুয়েলার মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কারাকাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার সাত মাস পর এই তথ্য সামনে এলো। টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি কাইল হাউসটভেইট জানান, ভেনিজুয়েলার দৈনিক মোট ১২.৫ লাখ ব্যারেল তেলের মধ্যে বর্তমানে ৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি যাচ্ছে আমেরিকায়।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনিজুয়েলার এই ভারী তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগ করেই যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের রিফাইনারিগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার এই বাণিজ্যকে একটি 'চমৎকার জ্বালানি অংশীদারিত্ব' হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলাকে তাদের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে জানিয়ে হাউসটভেইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ লাখ ব্যারেলের বেশি 'ন্যাপথা' ভেনিজুয়েলায় পাঠাচ্ছে, যা সেখানকার ভারী অপরিশোধিত তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহারযোগ্য করা হয়। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল রিজার্ভ রয়েছে ভেনিজুয়েলায়, যা বৈশ্বিক মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ বা ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল।

একই সম্মেলনে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'পিডিভিএসএ' (PDVSA)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জোভানি মার্তিনেজ জানান, চলতি বছরের আগস্টের শেষের দিকে তাদের প্রতিদিনের তেল উৎপাদন ১২.৪৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে। এ বছর তাদের তেল রপ্তানি ১৯.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের সংস্কারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তারা কাজ করছেন এবং দেশের রিফাইনারিগুলোর আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।

তবে এই বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রির অর্থ মার্কিন প্রশাসন কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। মার্কিন প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল যে, তেল বিক্রির অর্থ ওয়াশিংটনের নজরদারিতে থাকা বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সংস্থা 'কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস' মার্কিন সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, কত তেল বিক্রি হয়েছে বা সেই বিপুল অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে তা মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ করেনি। এতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দুর্নীতিগ্রস্ত নতুন শাসকশ্রেণি তৈরির ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment

0 Comments