যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে একটুখানি স্বস্তি, খার্তুমে ফিরল উন্মুক্ত সিনেমা হল

সুদান জুড়ে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ভয়াবহতার মাঝেই রাজধানী খার্তুমে দেখা গেল আশার নতুন আলো। শহরের বাসিন্দাদের মানসিক প্রশান্তি দিতে এবং কিছুটা স্বস্তি জোগাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে 'ওপেন-এয়ার' বা উন্মুক্ত সিনেমা প্রদর্শনীর ঐতিহ্য। দিনভর যুদ্ধ, বিস্ফোরণ আর আতঙ্কের জেরে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো এখন রাতের তারার নিচে বসে চলচ্চিত্র উপভোগের এক দুর্লভ সুযোগ পাচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে লণ্ডভণ্ড খার্তুমের সাধারণ জনজীবন। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় অধিবাসীদের। এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে এই উন্মুক্ত পেক্ষাগৃহ সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধের তাণ্ডব ভুলে থাকার এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সান্ধ্যকালীন এই আয়োজনে শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ পরিবারসহ একসাথে বসে সিনেমা দেখছেন, যা শহরের সামাজিক জীবনে দীর্ঘদিন পর একটু আনন্দের ছোঁয়া নিয়ে এসেছে।

এই উদ্যোগের উদ্যোক্তারা জানান, তাঁরা বিশেষ করে সুদানের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসনির্ভর স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুদানের নিজস্ব চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে এবং স্থানীয় নির্মাতারা নতুন কাজ করতে উৎসাহিত হবেন। সংকটকালেও নিজেদের ভাষার সিনেমা মানুষকে সামাজিকভাবে একসূত্রে বেঁধে রাখতে সাহায্য করছে।

তবে এই সুন্দর মানবিক উদ্যোগটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। যুদ্ধের কারণে শহরের বেশিরভাগ অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে মাঝপথেই সিনেমা প্রদর্শনী থমকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে। তবে সমস্ত বাধা সত্ত্বেও, বিকল্প জেনারেটর ব্যবহার করে আয়োজকেরা এই সিনেমা প্রদর্শনীর ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সব বাধা অতিক্রম করে খার্তুমের এই উন্মুক্ত সিনেমার প্রত্যাবর্তন আসলে সুদানীয়দের অদম্য জীবনসংগ্রামেরই এক প্রতীক। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়েও যে শিল্প ও বিনোদন মানুষের বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে পারে, খার্তুমের খোলা আকাশে ভেসে ওঠা চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দা যেন প্রতিনিয়ত সেই বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments