
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কিনা, এমন এক প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, এ নিয়ে কে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকরা তাকে বলেন যে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা উঠেছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও এসেছে। নেটিজেনরা এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, কোথাও কোথাও নিউজও হয়েছে বলে সাংবাদিকরা তাকে জানান।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য কী, জানতে চাইলে তিনি হ্যাঁ বা নাসূচক কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, কাজ করি। আপনি বলেন নেটিজেন! তো মানে কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তার জ্বালা কেন হচ্ছে? ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন -ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’
"আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের মিনিস্টারের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে, যে আমার বাংলাদেশিজম বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে। মানে, এখানে এসে বাংলাদেশের জন্য কাজ তো কোনো সুবিধাবাদী লোক আর করবে না," যোগ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও জানান, "দেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়াসহ দেশপ্রেমিক মানুষ যারা আছি, দেশের পক্ষে যারা আছি, সমস্ত মিডিয়া-দেশবাসী-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা আছি...সবাই মিলে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।"
এসময় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হতে চাওয়া প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, "মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে, মানুষের হৃদয়ে। তো মানে ওখানে...মিডিল ইস্টে একটা...মানে যদি ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্টও হয়, তাহলে ওখানে তো আর অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক কি হয়।"
বাগেরহাটের মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সোমবার এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সেই অনুসন্ধানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক মিরাজ শেখকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ শেখের পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) অভিযোগ করে যে গত ১০ই এপ্রিল মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় সাড় চার মাস ধরে নিখোঁজ।
তবে কোস্ট গার্ড বলছে, ওই দিন জয়মনির ঘোল এলাকায় তাদের কোনো বিশেষ অভিযান ছিল না। সেদিন শুধু হারবারিয়া ইকো ট্যুরিজম এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর করা সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্ট গার্ড বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে আটক, অপহরণ বা গুম করার অভিযোগ ছিল না।
কোস্ট গার্ডের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা জানতে পেরেছে যে মিরাজ শেখ সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বনদস্যু চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল।
এছাড়া, মিরাজ শেখের বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করেন। পিসিপিআর যাচাইয়ে মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দুইটি মামলায় তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
কিছু ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে মিরাজ শেখের পরিবারকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অপপ্রচার পরিচালনায় সহায়তা করছে এবং মিরাজ শেখকে নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও বলেছে যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করে এবং তাদেরকে কখনও সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা বা আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হতে দেখা যায়নি।
এ নিয়ে আরও পড়তে পারেন...
২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের একজন জেলে ও মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাই প্রথম গুমের ঘটনা বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), ভুক্তভোগীর পরিবার ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থিত কোস্ট গার্ডের (হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশন) পন্টুনে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে নেওয়া হয়।
মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার "কিছু সময়ের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্ট গার্ড স্পিড বোট আসে, যেখানে সাত-আট জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন। তারা পন্টুনে উঠে মিরাজ শেখের সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে তাদের সঙ্গে বোটে নিয়ে চলে যায়।"
দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীসহ মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটেছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথম দিকে মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার কথা জানানো হলেও পরে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় গত ২৩শে এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। পরে মিরাজের সন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ই জুলাই হাইকোর্ট কোস্ট গার্ডকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে দ্রুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন:
ফেনীতে নূসরাত জাহান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বাকিদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত আর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, আপিল ও জেল আপিলের শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। দশই এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। এর আগে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী মডেল থানায় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনেছিল নুসরাত।
এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।
হাইকোর্টের রায়ের পর আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘’নূসরাত হত্যা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। এখানে ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল আর চার জনের কোনো স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি ছিল না। এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়েছে। তার মধ্যে ১০ জনকে মাননীয় হাইকোর্ট বেকসুর খালাস দিয়েছেন।চারজনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। আর দুই জনে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।‘’
‘’হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, যে বিচারিক আদালতে এই ভাবে নির্বিচারে ফাসি দিতে গিয়ে প্রতিটি পরিবারের ওপর ডেভেসটেটিক এফেক্ট নেমে এসেছে, তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে বলেছেন,’’ বলেন শিশির মনির।
আরো পড়তে পারেন:
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকরা তাকে বলেন যে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা উঠেছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও এসেছে। নেটিজেনরা এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, কোথাও কোথাও নিউজও হয়েছে বলে সাংবাদিকরা তাকে জানান।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য কী, জানতে চাইলে তিনি হ্যাঁ বা নাসূচক কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, কাজ করি। আপনি বলেন নেটিজেন! তো মানে কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তার জ্বালা কেন হচ্ছে? ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন -ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’
"আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের মিনিস্টারের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে, যে আমার বাংলাদেশিজম বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে। মানে, এখানে এসে বাংলাদেশের জন্য কাজ তো কোনো সুবিধাবাদী লোক আর করবে না," যোগ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও জানান, "দেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়াসহ দেশপ্রেমিক মানুষ যারা আছি, দেশের পক্ষে যারা আছি, সমস্ত মিডিয়া-দেশবাসী-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা আছি...সবাই মিলে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।"
এসময় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হতে চাওয়া প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, "মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে, মানুষের হৃদয়ে। তো মানে ওখানে...মিডিল ইস্টে একটা...মানে যদি ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্টও হয়, তাহলে ওখানে তো আর অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক কি হয়।"
বাগেরহাটের মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়া বা গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সোমবার এক বিবৃতিতে বাহিনীটি বলেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সেই অনুসন্ধানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক মিরাজ শেখকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ শেখের পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) অভিযোগ করে যে গত ১০ই এপ্রিল মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় সাড় চার মাস ধরে নিখোঁজ।
তবে কোস্ট গার্ড বলছে, ওই দিন জয়মনির ঘোল এলাকায় তাদের কোনো বিশেষ অভিযান ছিল না। সেদিন শুধু হারবারিয়া ইকো ট্যুরিজম এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর করা সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্ট গার্ড বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে আটক, অপহরণ বা গুম করার অভিযোগ ছিল না।
কোস্ট গার্ডের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা জানতে পেরেছে যে মিরাজ শেখ সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বনদস্যু চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল।
এছাড়া, মিরাজ শেখের বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করেন। পিসিপিআর যাচাইয়ে মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দুইটি মামলায় তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
কিছু ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে মিরাজ শেখের পরিবারকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অপপ্রচার পরিচালনায় সহায়তা করছে এবং মিরাজ শেখকে নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও বলেছে যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করে এবং তাদেরকে কখনও সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা বা আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হতে দেখা যায়নি।
এ নিয়ে আরও পড়তে পারেন...
২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের একজন জেলে ও মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাই প্রথম গুমের ঘটনা বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), ভুক্তভোগীর পরিবার ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সাদা পোশাকে থাকা দুই কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থিত কোস্ট গার্ডের (হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশন) পন্টুনে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে নেওয়া হয়।
মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার "কিছু সময়ের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্ট গার্ড স্পিড বোট আসে, যেখানে সাত-আট জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন। তারা পন্টুনে উঠে মিরাজ শেখের সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে তাদের সঙ্গে বোটে নিয়ে চলে যায়।"
দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীসহ মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটেছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথম দিকে মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার কথা জানানো হলেও পরে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় গত ২৩শে এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। পরে মিরাজের সন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ই জুলাই হাইকোর্ট কোস্ট গার্ডকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে দ্রুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন:
ফেনীতে নূসরাত জাহান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বাকিদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত আর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, আপিল ও জেল আপিলের শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। দশই এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। এর আগে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী মডেল থানায় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনেছিল নুসরাত।
এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।
হাইকোর্টের রায়ের পর আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘’নূসরাত হত্যা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। এখানে ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল আর চার জনের কোনো স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি ছিল না। এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়েছে। তার মধ্যে ১০ জনকে মাননীয় হাইকোর্ট বেকসুর খালাস দিয়েছেন।চারজনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। আর দুই জনে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।‘’
‘’হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, যে বিচারিক আদালতে এই ভাবে নির্বিচারে ফাসি দিতে গিয়ে প্রতিটি পরিবারের ওপর ডেভেসটেটিক এফেক্ট নেমে এসেছে, তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে বলেছেন,’’ বলেন শিশির মনির।
আরো পড়তে পারেন:

0 Comments