
বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে এতদিন পশ্চিমা বিশ্বের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা কি এবার শেষের পথে? চীনের প্রস্তাবিত 'বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা' কি সত্যিই একটি ন্যায্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে? চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্নেল ঝো বো সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে বেইজিংয়ের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যতের নকশা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক নীতি ও কৌশলের মূল ভিত্তি হলো বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। চীনের দাবি, তাদের প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা হবে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং কোনো একক পরাশক্তির হাতে বন্দি থাকবে না। চিনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা ঝো বোর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন পূর্বের দিকে সরছে এবং এটি বৈশ্বিক স্থিরতার জন্য জরুরি।
তবে বেইজিংয়ের এই উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার বচনের সাথে তাদের বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক আচরণের মিল কতটুকু, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আগ্রাসী সামরিক উপস্থিতি, তাইওয়ান ঘিরে যুদ্ধংদেহি মনোভাব এবং ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সীমান্ত বিরোধ চীনের এই 'শান্তিপূর্ণ' ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অন্যদিকে, 'গ্লোবাল সাউথ' বা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে চীনের অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়েও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা সংশয় রয়েছে। চীনের বহুল আলোচিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলার যে অভিযোগ পশ্চিমা বিশ্ব প্রায়ই তুলে থাকে, সেটিকে চিনের নতুন সাম্রাজ্যবাদী কৌশল হিসেবেই দেখেন অনেকে।
এই দ্বিমুখী বাস্তবতার মাঝেই ঝো বো চিনকে একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, বেইজিং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি পুনর্নির্ধারণ করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— চীন কি সত্যিই একটি নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, নাকি পশ্চিমা পরাশক্তিকে সরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেই একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে?
বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক নীতি ও কৌশলের মূল ভিত্তি হলো বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। চীনের দাবি, তাদের প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা হবে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং কোনো একক পরাশক্তির হাতে বন্দি থাকবে না। চিনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা ঝো বোর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন পূর্বের দিকে সরছে এবং এটি বৈশ্বিক স্থিরতার জন্য জরুরি।
তবে বেইজিংয়ের এই উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার বচনের সাথে তাদের বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক আচরণের মিল কতটুকু, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আগ্রাসী সামরিক উপস্থিতি, তাইওয়ান ঘিরে যুদ্ধংদেহি মনোভাব এবং ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সীমান্ত বিরোধ চীনের এই 'শান্তিপূর্ণ' ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অন্যদিকে, 'গ্লোবাল সাউথ' বা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে চীনের অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়েও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা সংশয় রয়েছে। চীনের বহুল আলোচিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলার যে অভিযোগ পশ্চিমা বিশ্ব প্রায়ই তুলে থাকে, সেটিকে চিনের নতুন সাম্রাজ্যবাদী কৌশল হিসেবেই দেখেন অনেকে।
এই দ্বিমুখী বাস্তবতার মাঝেই ঝো বো চিনকে একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, বেইজিং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি পুনর্নির্ধারণ করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— চীন কি সত্যিই একটি নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, নাকি পশ্চিমা পরাশক্তিকে সরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেই একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে?

0 Comments