যুক্তরাষ্ট্রে বন সুরক্ষার ঐতিহাসিক আইন বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসন, তীব্র প্রতিবাদ পরিবেশবাদীদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫ মিলিয়ন একর (১ কোটি ৮০ লাখ হেক্টর) জাতীয় বনভূমিকে রাস্তা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক গাছ কাটা থেকে সুরক্ষিত রাখা ঐতিহাসিক আইন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ২০০১ সালের 'রোডলেস এরিয়া কনজারভেশন রুল' বা পথবিহীন এলাকা সংরক্ষণ নীতি সম্পূর্ণরূপে তুলে দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

মার্কিন কৃষি সচিব ব্রুক রলিন্স এই প্রস্তাব জমা দিয়ে জানান, এর মাধ্যমে বন ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা স্থানীয় কর্মকর্তাদের হাতে ফিরে যাবে, যা দাবানলের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এক বিবৃতিতে রলিন্স বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রাচীন বিধিনিষেধ কোটি কোটি একর বনাঞ্চলকে এমন কিছু প্রযুক্তিগত পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত রেখেছে, যা বনের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং দাবানলের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন ছিল। ব্যর্থ এই নীতি পেছনে ফেলে আমাদের বনগুলোকে পুনরায় স্বাস্থ্যকর ও উৎপাদনশীল করে তোলার সময় এসেছে।”

ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মতে, দুর্গম বনাঞ্চলে যাতায়াতের পথ সুগম হলে দাবানল ছড়িয়ে পড়লে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা সহজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবেন। মন্টানার গভর্নর গ্রেগ জিয়ানফোর্টে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত বিধিনিষেধ তাঁদের রাজ্যের বন সঠিকভাবে পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছিল।

তবে এই প্রস্তাবের চরম বিরোধিতা করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, রাস্তা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয় ও দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা 'দ্য ওয়াইল্ডারনেস সোসাইটি'-র গবেষণা অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তুলনায় রাস্তার কাছাকাছি এলাকায় দাবানল সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় চার গুণ বেশি।

'সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি'-র আঞ্চলিক পরিচালক টেলর ম্যাককিনন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দুর্গম বনাঞ্চলগুলো বিরল সব বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এখানে জাগুয়ার, মেক্সিকান স্পটেড পেঁচা এবং ওসেলটের মতো বিপন্ন প্রাণীরা বাস করে। তাঁদের প্রাকৃতিক বাসস্থানে রাস্তা তৈরি করা হলে মানবসৃষ্ট দাবানল ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে, যা এই প্রাণীদের অস্তিত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তথ্যমতে, ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির প্রায় ৪৯ হাজার স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে এবং ৭৩ লাখ একর বনভূমি ভস্মীভূত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও বন সুরক্ষা আইনের এই শিথিলতা মার্কিন পরিবেশকে আরও বড় বিপদের মুখে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। প্রস্তাবিত এই নীতিটির ওপর আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments