মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি

মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হওয়ার পর অব্যাহতভাবে চলছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

এর আগে গত ১১ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল থেকে পরে মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

২০২৫ সালের মার্চ মাসের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে এক শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

বিশেষ এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই দলের সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সেই সঙ্গে আছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

এফএইচ/এমএমকে

Post a Comment

0 Comments