গ্যাস সংকটে ধস বিদ্যুৎ উৎপাদনে: দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং, চরম ভোগান্তি

দেশে আবারও তীব্র হচ্ছে বিদ্যুতের সংকট। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের টান পড়ায় সারা দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধাক্কা লেগেছে। এর সরাসরি প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড খরা ও তীব্র গরমের মধ্যে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।

পেট্রোবাংলা ও বিদ্যুৎ খাত সূত্রে জানা গেছে, এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা তিনটায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) বন্ধ হয়ে যায়। মজুত শূন্য হয়ে পড়ার পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি থমকে গেছে। বর্তমানে কেবল সামিটের টার্মিনাল থেকেই আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বুধবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল মাত্র ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুটে।

গ্যাসের এই তীব্র সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্যানুযায়ী, বুধবার দিনের শুরুতে বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রায় না থাকলেও সন্ধ্যার পর তা লাফিয়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সকালে যেখানে মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল, রাত সাতটায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াটে উঠলে সরবরাহ নেমে আসে ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াটে। ফলে ওই সময়ে একলাফে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াটে। রাত ৯টাতেও ২ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় চালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানী ঢাকায় এলাকাভিত্তিক ভাগ করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। আর গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এলএনজি কার্গো না পৌঁছানো পর্যন্ত বা বৃষ্টি হয়ে আবহাওয়া শীতল না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি কমার বিশেষ সম্ভাবনা নেই।

Post a Comment

0 Comments