তমার চাকরি নিয়ে সমালোচনার জবাব, ২ কোটির টাকার হিসাব জয়ের

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জা। অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি নতুন এক পেশাগত পরিচয়ে সামনে এসেছেন তিনি। একটি বেসরকারি ব্যাংকের নির্বাহী সহসভাপতি পদে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তমার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এবার সমালোচকদের জবাব দিয়ে তমার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জয় তমার ব্যাংকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। পাশাপাশি তার আগের বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

জয় লিখেছেন, ‘তমা মির্জা ব্যাংকের ইভিপি না হয়ে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলে আমি খুশি হতাম। হ্যাঁ, আমি কথা বলেছিলাম। কিন্তু কথাটার মর্ম এবং গভীরতা অনেকেই অনেক বিক্ষিপ্ত দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

তমার কারণে ব্যাংকটি যে প্রচার পেয়েছে, সেটি পেতে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো বলে মনে করেন জয়। তিনি লিখেছেন, ‘তমা মির্জার কারণে ব্যাংকটি যে পাবলিসিটি পেল, সেটি পেতে হলে কমপক্ষে ২ কোটি টাকা খরচ করতে হতো।’

শুধু প্রচারের বিষয়ই নয়, তমার ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ দক্ষতাকেও ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জয়। তার মতে, যে দায়িত্বে তমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার সাফল্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জয় লেখেন, ‘ব্র্যান্ড এবং কমিউনিকেশনের যে স্কিল তমা মির্জার আছে, তাতে ব্যাংক তাকে নিয়োগ দিয়ে উপকৃত হবে। এখানে তমা মির্জার কয় বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা- এগুলোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটিতে তমাকে নেওয়া হয়েছে, সেই কাজটিতে সে কতটুকু সফল হবে তার ওপর নির্ভর করে।’

ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাইরে থেকে প্রশ্ন তোলারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন জয়। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চয়ই এত অবুঝ না। তার প্রমাণ আমরা যোগাযোগমাধ্যমে পেয়ে গেছি এরই মধ্যে। প্রথম ধাপেই সফল হয়েছেন তমা মির্জা। আরও অনেক বাকি।’

তমার নতুন পেশাগত পরিচয়কে স্বাগত জানিয়ে জয় তাকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘সে যেহেতু তার এই নতুন পরিচয়ে সন্তুষ্ট এবং আত্মবিশ্বাসী, তাকে আমিসহ সকলের অভিনন্দন জানানো উচিত। সে একটা সফল উদাহরণ হতে পারে। তাকে আমরা সময় দেই। তার সফলতা ছড়িয়ে যাক।’

জয়ের মতে, তমা যদি নতুন এই পেশায় সফল হন, তাহলে ভবিষ্যতে বিনোদন অঙ্গনের অন্য তারকারাও বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ পাবেন। তিনি লেখেন, ‘তাহলে যা হবে, বিভিন্ন সেক্টরে সেলিব্রেটি অ্যাক্টররা ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবে। কাজের দুয়ার উন্মুক্ত হওয়া সবচেয়ে সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয় আরও বলেন, ‘মিডিয়ার অবস্থা ভালো হলে অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন আমাদের হতো না।’ মানুষের যোগ্যতা অনেক সময় প্রচলিত নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে-এমন উদাহরণ হিসেবে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।

জয়ের ভাষায়, ‘দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনীতিবিদকে রেখে অনেক সময় সরকারপ্রধান অরাজনৈতিক একজন ব্যক্তিকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। কারণ ওই কাজটি হয়তো সেই সবচেয়ে ভালো পারবে। তমা মির্জা তেমনই একজন। ব্যাংকিং সেক্টরের টেকনোক্র্যাট ইভিপি। কাজেই তার চাকরি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করে কোনো লাভ নেই।’

এদিকে তমার ব্যাংকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। তমার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সমাজে নারী ও পুরুষের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।

ভাবনা লিখেছিলেন, ‘তমা মির্জার জায়গায় কোনো পুরুষ অভিনেতা ব্যাংকের এই একই পদে থাকলে আমাদের কলিগরাই বড় ভাই বলে তেল দিতেন।’

নারীর সাফল্যকে কোনো পুরুষের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রবণতারও প্রতিবাদ জানান ভাবনা। তিনি বলেন, একজন নারী একই সঙ্গে অভিনয়, ব্যবসা, চাকরি, ছবি আঁকা, গান, লেখালেখিসহ নানা কাজ করতে পারেন। নিজের পেশা ও জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাও একজন নারীর রয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি করপোরেট জগতে তমার নতুন এই যাত্রা নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে, তখন একের পর এক সহকর্মীর সমর্থন পাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এবার শাহরিয়ার নাজিম জয়ের বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

এমএমএফ

Post a Comment

0 Comments