ইরানকে সহায়তা করলেই নজিরবিহীন অবরুদ্ধতা! বিশ্বকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে এবার এক নজিরবিহীন ও কঠোর অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদান কিংবা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখলে যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধানের পথ তৈরি হয়নি। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধের বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে সাধারণ মার্কিন ভোক্তারা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়তে থাকায় দেশের ভেতরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “আজ আমি এমন এক কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করছি, যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে মারাত্মক পদক্ষেপ। এটি হতে যাচ্ছে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিকভাবে অবরুদ্ধ করার প্রক্রিয়া।”

হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংস্থা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেবে, সেই দেশকেও চূড়ান্ত অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে হবে। তবে এই পদক্ষেপে কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করা হচ্ছে বা শাস্তির মাত্রা কেমন হবে, তা ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলেননি।

এরই মধ্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে কোণঠাসা করতে একটি দ্বিমুখী কৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। বেসেন্ট জানান, ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে বিশেষ কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে ইরানের মূল অর্থায়নের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

Post a Comment

0 Comments