মধ্যপ্রাচ্যে সেনা গোটানোর নজিরবিহীন ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের সাথে সংঘাতের মুখে কৌশল বদলের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের বিশাল সামরিক উপস্থিতি কি এবার গুটিয়ে নিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির পর এমন সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠছে। তেহরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করছে পেন্টাগন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক বহর ও উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই খবরের জের ধরে ইরাক সফররত ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের গালিবাফ দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তিগুলোর দিন দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল ‘সম্মানজনক উপায়ে’ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলেও সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি অবসান নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও, তাঁর উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার দাবি করেছেন ডিপ্লোম্যাটিক আলোচনা চলছে অত্যন্ত জোরালোভাবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন চাপে নয়, বরং নিজেদের শর্তেই কেবল তারা ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় আগ্রহী।

পেন্টাগনের সেনট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জর্ডান থেকে শুরু করে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২০টি সামরিক স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রাখে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ছাড়াও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বিমান সম্পদ রয়েছে। তবে সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন সেনা উপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে। কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ইরানি হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটে এবং মার্কিন বাহিনীর দুই শতাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এই বিশাল ক্ষতির মুখেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে নাকি সেনা প্রত্যাহার করা হবে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে পেন্টাগন ও সেন্টকম।

সংঘাতের এ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনীতিতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন সামরিক কৌশলেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

Post a Comment

0 Comments