‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে সিরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বড় মাইলফলক অর্জন করল সিরিয়া। সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) সোমবার এক বিবৃতিতে কয়েক দশকের পুরনো এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আল-নুসরা ফ্রন্টকেও বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংগঠনটির সাবেক প্রধান ছিলেন সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, যা পূর্বে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক ঝটিকা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আল-শারা। এরপর থেকে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে সিরিয়ায় নতুন বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান বাধাগুলো দূর হলো। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, যা পশ্চিমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, "সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি সিরিয়াকে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই অংশ।"

ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার কূটনীতির এক "বিশাল ও ঐতিহাসিক সাফল্য" হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বার্নিহ। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পুনর্যুক্ত হওয়া, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পথ উন্মুক্ত হলো।

অন্যদিকে, সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসলাঁ বলেন, "এই পদক্ষেপ সিরিয়াকে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার স্বাভাবিক স্থানে ফিরিয়ে আনবে। আমরা এখন একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছি।" সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূত টম বারাক এই ঘটনাকে "একঘরে অবস্থা থেকে অংশীদারিত্বের দিকে সিরিয়ার রূপান্তরের একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ" বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই তালিকায় থাকার কারণে সিরিয়ার ওপর বৈদেশিক সাহায্য, প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ আরোপিত ছিল। এই বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় দেশটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments