যুক্তরাজ্যে উল্টো পথে আসা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাজ্যে মহাসড়কে উল্টো দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এক পুলিশি ধাওয়ার সময় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই গাড়িতে থাকা সব আরোহীই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মিডলসব্রো এলাকার কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ক্লিভল্যান্ড পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৩৯ মিনিটে একটি সন্দেহভাজন 'ভোলেক্সওয়াগন প্যাসেট' গাড়ি মহাসড়কের ভুল দিক দিয়ে তীব্র গতিতে চালিয়ে আসছিল। গাড়িটিতে সাধারণ ৫ জন আরোহী ছিলেন। খবর পেয়ে ক্লিভল্যান্ড পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল গাড়িটিকে থামানোর জন্য পিছু ধাওয়া করে। কিন্তু উল্টো পথে ধেয়ে আসা বেপরোয়া গাড়িটি সরাসরি সঠিক লেনে থাকা টহলরত পুলিশি যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি গাড়ির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ৩৭ বছর বয়সী ম্যাথিউ ব্লেডস এবং ৩৮ বছর বয়সী টম ক্লফ। ক্লিভল্যান্ড পুলিশের চিফ কনস্টেবল ভিক্টোরিয়া ফুলার এই ঘটনাকে তাদের বাহিনীর জন্য এক "অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "আমাদের দুই সাহসী কর্মকর্তা ডিউটি শেষে আর কোনোদিন তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন না। আমরা তাঁদের পরিবারের পাশে আছি।"

উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড জুড়ে গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে পৃথক কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও প্রায় একই ধরনের একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কোনো বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ বা ট্রেন্ডের অংশ হিসেবে তরুণরা এভাবে উল্টো পথে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এই ধরনের আত্মঘাতী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "আমাদের সড়কে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।" ইতোমধ্যে আইরিশ পার্লামেন্টারি কমিটি ও মিডিয়া রেগুলেটর জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম 'টিকটক'-কে তলব করে জানতে চেয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নকারী বিপজ্জনক ও অবৈধ কার্যকলাপের ভিডিও সরাতে তারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গভীর তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।

Post a Comment

0 Comments