দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবার লম্বা ছুটি, কার টানে মার্কিন মুলুকে সাফা কবির?

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ সাফা কবির। এক যুগেরও বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে দর্শকদের অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে কাজের ব্যস্ততার মাঝে নিজের জন্য সময় বের করা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ঝুলিতে ছুটির তালিকা ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত। এতদিন শুটিংয়ের ব্যস্ততা ফেলে কখনোই এভাবে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়াননি এই অভিনেত্রী। তবে এবার যেন সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে দীর্ঘ এক ছুটির আনন্দে মেতেছেন তিনি।

টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের শুটিং থেকে দূরে রয়েছেন সাফা। এর মধ্যে প্রায় দেড় মাস তিনি কাটাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এত দিন কাজ ছাড়া দূরে থাকার বিষয়টি সাফার ডায়েরিতে বেশ বিরল ঘটনা। তাই সফরের শুরুতেই সাফা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১২-১৩ বছরে কখনোই এত বড় ছুটির সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

দীর্ঘ এই ভ্রমণের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাফা বলেন, “কাজের সূত্রে শুটিংয়ের জন্য দেশের বাইরে বহুবার যাওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানো আর ছুটির আমেজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এত দিনের জন্য দূরে থাকা কখনোই হয়নি। অনেক দিন ধরেই এমন একটা লম্বা ছুটির পরিকল্পনা করছিলাম, কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠছিল না। এবার সেই সুযোগ আসায় কোনো দ্বিধা না করেই চলে এলাম। সত্যি বলতে, খুব চমৎকার একটি সময় পার করছি।”

কিন্তু হঠাৎ কিসের টানে বা কার আহ্বানে মার্কিন মুলুকে এত দীর্ঘ সফর? এমন প্রশ্নের জবাবে একগাল হেসে সাফা শোনালেন তাঁর শৈশবের এক মধুর গল্প। মূল টানটা ছিল তাঁর শৈশবের এক প্রিয় বন্ধুর। সাফা জানান, “আমরা শৈশব থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছি। আমাদের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু ও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দিন আমাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ও আমার অন্যতম সেরা বন্ধু। মূলত তাঁর সঙ্গে দেখা করা এবং পুরনো স্মৃতি তাজা করার জন্যই এই ট্রিপ। অনেক দিন পর আমরা দুজন দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটাচ্ছি।”

তবে শুধু প্রিয় বন্ধুই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সাফা কবিরের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও পারিবারিক সদস্য বসবাস করেন। ফলে এই সফরটি সাফার জন্য কেবল একটি ভ্রমণই নয়, বরং এক বিশাল পারিবারিক পুনর্মিলনীতে পরিণত হয়েছে। এই সফরে তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে অস্টিন, লস অ্যাঞ্জেলেস এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকোর বহু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেছেন।

সাফার মতে, বর্তমান সময়ে আমরা সবাই নিজের নিজের জায়গায় এত বেশি ব্যস্ত যে কাছের মানুষদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ খুব একটা মেলে না। তাই সামার টাইম বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে কাজে লাগিয়ে প্রিয়জনদের সময় দেওয়াকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। নিজের জন্য ও নিজের ভালোবাসার মানুষদের জন্য এই বিশেষ সময়টুকু তুলে রাখতে পেরে বেশ আনন্দিত এই জনপ্রিয় তারকা। ছুটির এই মধুর অভিজ্ঞতা শেষে আবারো নতুন উদ্যমে কাজে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments