
বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে পড়েছিল একটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গলিত মরদেহ। তার শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিল জমাটবাঁধা সিমেন্টের বস্তা। পেট কাটা, মাথা কাপড়ে ঢাকা এবং হাত-পা ছিল বাঁধা। পরিচয় তখনও অজানা। মরদেহ উদ্ধারের কয়েক দিন পর এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, মরদেহটি তার ভাইয়ের। পরে দুই ভাই, স্ত্রী ও চাচা থানায় এসে সংরক্ষিত শার্ট ও প্যান্ট দেখে মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন।
তারা জানান, এই ব্যক্তি সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম, যিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। বর্তমানে তার বয়স ৬০ বছর।
রোববার (২৩ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এসময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।
বলেশ্বর নদীর তীরে মরদেহ
জবানবন্দিতে মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে তিনি অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানায় কর্মরত ছিলেন। সেদিন সরকারি বিশেষ কাজে তিনি বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। বিকেল আনুমানিক ৩টার পর শরণখোলা থানার একজন চৌকিদার তাকে ফোন করে জানান, বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে একজন অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। এলাকাটির নাম চাল রায়েন্দা।
চৌকিদার তাকে আরও জানান, মরদেহটির শরীরে জমাট সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল। মরদেহটি ডিকম্পোজড বা গলিত অবস্থায় ছিল। পেট কাটা ছিল, মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল এবং হাত-পা বাঁধা ছিল।
বিষয়টি জানার পর তিনি থানার দায়িত্বে থাকা এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
এসআই ইকবাল জিডিমূলে ঘটনাস্থলে যান, মরদেহেরর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় মরদেহটি থানায় নিয়ে আসা হয় এবং সেদিন আর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
চৌকিদার বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করলে এসআই ইকবাল একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করেন এবং নিজেই তদন্তভার গ্রহণ করেন।
রাতে থানায় ফিরে মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার মরদেহটি দেখেন। তিনি বলেন, মরদেহে পচন ধরায় আমি কেবল এর বাহ্যিক অবস্থা দেখেছি।
পরদিন সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি অজ্ঞাত হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।
ফোন আসে দুই দিন পর
মরদেহ উদ্ধারের আনুমানিক দুই দিন পর এক ব্যক্তি মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদারকে ফোন করেন। সেই ব্যক্তি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার ভাইয়ের। তিনি জানান, আনুমানিক দুই থেকে তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে তার ভাই অপহৃত হন। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার তাকে থানায় আসতে বলেন। এর চার থেকে পাঁচ দিন পর মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী এবং চাচা শরণখোলা থানায় আসেন। থানায় সংরক্ষিত মৃত ব্যক্তির শার্ট ও প্যান্ট দেখে তারা তাকে শনাক্ত করেন। আগত সবাই দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি তাদের আত্মীয় এবং মৃত ব্যক্তির স্ত্রী দাবি করেন, লাশটি তার স্বামীর।
তারা মরদেহটি কোথায় দাফন করা হয়েছে জানতে চাইলে থানার ওসি জানান, অজ্ঞাত হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বাগেরহাট কবরস্থানে লাশটি দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা লাশটি নিজেদের এলাকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইলে তিনি তাদের বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লাশটি নেওয়া যাবে।
থানায় আসা ব্যক্তিরা তাকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন সাবেক বিডিআর সদস্য। তার নাম নজরুল ইসলাম।
তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর নজরুল ইসলাম পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিডিআর সেক্টর থেকেও ফোন
মরদেহ উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন পর খুলনা বিডিআর সেক্টর থেকে একজন কর্নেল ফোন করেন বলে জবানবন্দিতে জানান মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর জেনে ওই কর্নেল ফোন করে মরদেহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। কর্নেল তাকে বলেন, একজন বিডিআর সদস্য থানায় যাবেন এবং তাকে যেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করা হয়। প্রয়োজনে তিনি নিজেও ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে চান বলে জানান।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য দাবি করে থানায় আসা ব্যক্তিরাও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রাজি হন। এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বদলি হয়ে রামপাল থানায় চলে যান।
তিনি বলেন, শরণখোলা থানায় তিনি ১১ মাস চাকরি করেছেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আনুমানিক ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের লাশ পাওয়া যাচ্ছিল বলে তিনি সমসাময়িক সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন।
জেরায় যা বললেন সাক্ষী
জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান তাকে জেরা করেন। জেরার সময় সাক্ষী বলেন, ‘আমি লাশটি দেখেছি, তবে সম্পূর্ণ লাশ দেখতে পারিনি। যতটুকু দেখেছি, তাতে কোনো গুলির চিহ্ন দেখিনি। তবে কানের কাছে রক্তের মতো কিছু দেখেছিলাম।’
তিনি জানান, তিনি লাশের ওপরের অংশ দেখেছিলেন এবং ওই লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন দেখেননি। যে চৌকিদার তাকে লাশ উদ্ধারের খবর দিয়েছিলেন, তার নাম ওই মুহূর্তে তার স্মরণ নেই।
নজরুলের লাশের সঙ্গে যে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না। তবে সিমেন্টের বস্তাটি তিনি থানায় দেখেছিলেন।
সিমেন্টের বস্তাটি চটের ছিল কি না, তাও তার স্মরণ নেই বলে জেরায় জানান তিনি। লাশ উদ্ধারের দুদিন পর যে ব্যক্তি তাকে ফোন করেছিলেন, তিনি মৃত ব্যক্তির ছোট ভাই ছিলেন বলে সাক্ষী জানান। তবে তার নাম তার মনে নেই।
সেই ব্যক্তি ঝালকাঠি থেকে ফোন করেছিলেন বলেও তিনি জানান। তবে ফোনের তথ্যটি সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছিলেন কি না, তা তার স্মরণ নেই।
এফএইচ/এমআইএইচএস/
তারা জানান, এই ব্যক্তি সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম, যিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। বর্তমানে তার বয়স ৬০ বছর।
রোববার (২৩ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এসময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।
বলেশ্বর নদীর তীরে মরদেহ
জবানবন্দিতে মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে তিনি অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানায় কর্মরত ছিলেন। সেদিন সরকারি বিশেষ কাজে তিনি বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। বিকেল আনুমানিক ৩টার পর শরণখোলা থানার একজন চৌকিদার তাকে ফোন করে জানান, বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে একজন অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। এলাকাটির নাম চাল রায়েন্দা।
চৌকিদার তাকে আরও জানান, মরদেহটির শরীরে জমাট সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল। মরদেহটি ডিকম্পোজড বা গলিত অবস্থায় ছিল। পেট কাটা ছিল, মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল এবং হাত-পা বাঁধা ছিল।
বিষয়টি জানার পর তিনি থানার দায়িত্বে থাকা এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
এসআই ইকবাল জিডিমূলে ঘটনাস্থলে যান, মরদেহেরর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় মরদেহটি থানায় নিয়ে আসা হয় এবং সেদিন আর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
চৌকিদার বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করলে এসআই ইকবাল একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করেন এবং নিজেই তদন্তভার গ্রহণ করেন।
রাতে থানায় ফিরে মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার মরদেহটি দেখেন। তিনি বলেন, মরদেহে পচন ধরায় আমি কেবল এর বাহ্যিক অবস্থা দেখেছি।
পরদিন সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি অজ্ঞাত হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।
ফোন আসে দুই দিন পর
মরদেহ উদ্ধারের আনুমানিক দুই দিন পর এক ব্যক্তি মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদারকে ফোন করেন। সেই ব্যক্তি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার ভাইয়ের। তিনি জানান, আনুমানিক দুই থেকে তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে তার ভাই অপহৃত হন। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার তাকে থানায় আসতে বলেন। এর চার থেকে পাঁচ দিন পর মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী এবং চাচা শরণখোলা থানায় আসেন। থানায় সংরক্ষিত মৃত ব্যক্তির শার্ট ও প্যান্ট দেখে তারা তাকে শনাক্ত করেন। আগত সবাই দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি তাদের আত্মীয় এবং মৃত ব্যক্তির স্ত্রী দাবি করেন, লাশটি তার স্বামীর।
তারা মরদেহটি কোথায় দাফন করা হয়েছে জানতে চাইলে থানার ওসি জানান, অজ্ঞাত হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বাগেরহাট কবরস্থানে লাশটি দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা লাশটি নিজেদের এলাকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইলে তিনি তাদের বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লাশটি নেওয়া যাবে।
থানায় আসা ব্যক্তিরা তাকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন সাবেক বিডিআর সদস্য। তার নাম নজরুল ইসলাম।
তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর নজরুল ইসলাম পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিডিআর সেক্টর থেকেও ফোন
মরদেহ উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন পর খুলনা বিডিআর সেক্টর থেকে একজন কর্নেল ফোন করেন বলে জবানবন্দিতে জানান মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর জেনে ওই কর্নেল ফোন করে মরদেহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। কর্নেল তাকে বলেন, একজন বিডিআর সদস্য থানায় যাবেন এবং তাকে যেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করা হয়। প্রয়োজনে তিনি নিজেও ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে চান বলে জানান।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য দাবি করে থানায় আসা ব্যক্তিরাও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রাজি হন। এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বদলি হয়ে রামপাল থানায় চলে যান।
তিনি বলেন, শরণখোলা থানায় তিনি ১১ মাস চাকরি করেছেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আনুমানিক ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের লাশ পাওয়া যাচ্ছিল বলে তিনি সমসাময়িক সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন।
জেরায় যা বললেন সাক্ষী
জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান তাকে জেরা করেন। জেরার সময় সাক্ষী বলেন, ‘আমি লাশটি দেখেছি, তবে সম্পূর্ণ লাশ দেখতে পারিনি। যতটুকু দেখেছি, তাতে কোনো গুলির চিহ্ন দেখিনি। তবে কানের কাছে রক্তের মতো কিছু দেখেছিলাম।’
তিনি জানান, তিনি লাশের ওপরের অংশ দেখেছিলেন এবং ওই লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন দেখেননি। যে চৌকিদার তাকে লাশ উদ্ধারের খবর দিয়েছিলেন, তার নাম ওই মুহূর্তে তার স্মরণ নেই।
নজরুলের লাশের সঙ্গে যে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না। তবে সিমেন্টের বস্তাটি তিনি থানায় দেখেছিলেন।
সিমেন্টের বস্তাটি চটের ছিল কি না, তাও তার স্মরণ নেই বলে জেরায় জানান তিনি। লাশ উদ্ধারের দুদিন পর যে ব্যক্তি তাকে ফোন করেছিলেন, তিনি মৃত ব্যক্তির ছোট ভাই ছিলেন বলে সাক্ষী জানান। তবে তার নাম তার মনে নেই।
সেই ব্যক্তি ঝালকাঠি থেকে ফোন করেছিলেন বলেও তিনি জানান। তবে ফোনের তথ্যটি সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছিলেন কি না, তা তার স্মরণ নেই।
এফএইচ/এমআইএইচএস/

0 Comments