বর্তমান বাজারে সরকারি বেতনে ১৫ দিন চলাও সম্ভব নয়: সারজিস আলম

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি বেতন দিয়ে ১৫ দিন চলাও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সেই সঙ্গে তিনি আগামী মাস থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় সারজিস আলম এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়েব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বেতন পান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা দিয়ে ১৫ দিন চলাও সম্ভব নয়। অথচ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নামে সরকার টালবাহানা করছে। আগামী মাস থেকেই যেন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, আমরা সেই জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা অভিযোগ করেন, প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নামে আবারও ২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে।

চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যখাত ও সড়কের বেহাল দশা। সামান্য চিকিৎসার জন্যও মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে। বর্ষা শেষ হলেই নীতিনির্ধারকেরা সব ভুলে যান, আর বর্ষা এলেই শুরু হয় নানা নাটক।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এনসিপি আগামীতে একক প্রার্থী দিয়ে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলেই সংকট বাড়ে। নির্বাচনের আগে সংকট সমাধানের কথা বলা হলেও ক্ষমতায় এসে হরিলুটের সূচনা করেছে।

দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত ১৮০ দিনে দেশের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরোয়ার তুষার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে ফিল্মি কায়দায় গেলেও পাশের রাউজানে প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন ও খুনাখুনির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মনিটরিং যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের আইন দুর্বল করা এবং ফ্যামিলি কার্ডে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সরোয়ার তুষার বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হলে সরকার পূর্ণ মেয়াদের আগেই জনরোষের মুখে পড়বে। প্রয়োজনে এনসিপি রাজপথে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বকর মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজাউদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/একিউএফ

Post a Comment

0 Comments