ইয়েমেনে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা: হুথি ও সরকারি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে ফের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের তীব্র দামামা বাজতে শুরু করেছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে দেশটিতে আবার নতুন করে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইয়েমেন সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ৮১টি হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এই অভিযানে হুথিদের বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা এবং কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কমান্ডার নিহত বা 'নিষ্ক্রিয়' হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের দমনে সরকারি বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিবেশী সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের এই ড্রোন হামলা নাজরান বিমানবন্দর এবং জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘সফলভাবে’ আঘাত হেনেছে। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

হুথিদের প্রধান সমর্থক ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সৌদিকে সতর্ক করে বলেছে, হুথিদের এই ক্রমবর্ধমান হামলা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা রিয়াদের নেই। গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক সৌদি পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। অপরদিকে, এডেনভিত্তিক ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, হুথিরা ইয়েমেনের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে এবং দেশটির তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হস্তক্ষেপে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, বর্তমানে তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার মুখে।

এদিকে, জাতিসংঘের তথ্যমতে ইয়েমেনের অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ইয়েমেনিদের নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে না ফেলতে এবং অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক উস্কানি বন্ধ করতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক।

Post a Comment

0 Comments