সংগীতজগতে শোকের ছায়া: ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত আমেরিকার কিংবদন্তি কান্ট্রি গায়িকা ডলি পার্টন

আমেরিকার সংগীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ৮০ বছর বয়সে সুরলোকের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন বিশ্বখ্যাত কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি শিল্পী ও সুরকার ডলি পার্টন। মঙ্গলবার আমেরিকার টেনেসির ন্যাশভিলে নিজ বাসভবনে শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী শিল্পী। তাঁর প্রচারকের পক্ষ থেকে প্রয়াণের এই সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডলি পার্টনের প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমী ও তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্তের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তাঁর ভাগ্নে ব্রায়ান সিভার বলেন, "ডলি চিরকাল আলোর মাঝে বাস করেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের গায়ক, সুরকার ও স্বপ্নদর্শীদের জন্য সাফল্যের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।"

টেনেসির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন ডলি পার্টন। ১২ ভাইবোনের সংসার চালাতে তাঁর বাবাকে কঠোর সংগ্রাম করতে হতো। শৈশবে স্থানীয় চার্চে গান গেয়ে সুরের যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ঐতিহাসিক 'গ্র্যান্ড ওল ওপ্রি' মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ পান, যেখানে কিংবদন্তি জনি ক্যাশ তাঁকে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন।

পরবর্তীকালে নিজের মেধা, অনবদ্য গায়কি এবং অনন্য ব্যক্তিত্বের জোরে সংগীতজগতে নিজস্ব এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ডলি। 'জোলিন' (Jolene), 'নাইন টু ফাইভ' (9 to 5), এবং 'কোট অব মেনি কালার্স' (Coat of Many Colors)-এর মতো কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। কর্মজীবনে তিনি রেকর্ড ৫৫ বার গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং ১০ বার এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা জয় করেন। ১৯৯৯ সালে তাঁকে 'কান্ট্রি মিউজিক হল অব ফেমে' অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংগীতের পাশাপাশি সমাজসেবাতেও অনন্য অবদান রেখেছেন এই আন্তর্জাতিক তারকা। নিজের বাবার নিরক্ষরতার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'ইমাজিনেশন লাইব্রেরি', যার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে কোটি কোটি বই বিতরণ করা হয়।

ডলি পার্টনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সম্মানে এক সপ্তাহের জন্য মার্কিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কান্ট্রি মিউজিক হল অব ফেমের প্রধান নির্বাহী কাইল ইয়ং এক বিবৃতিতে বলেন, "ডলির আসল পরিচয় তাঁর তারকাখ্যাতি নয়, বরং তাঁর মানবতা। দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে তিনি তাঁর সাফল্য ও সুরের মূর্ছনা বিশ্ববাসীর কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন।"

Post a Comment

0 Comments