কঙ্গোতে ইবোলার তাণ্ডব: ভাইরাসের বিস্তার রুখতে ৭০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোতে (ডিআরসি) ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে মারাত্মক প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ। একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মহামারি রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঙ্গোকে ৭০ হাজার ডোজ 'এরভেবো' (Ervebo) প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিশ্বব্যাপী ইবোলা প্রতিষেধকের জরুরি মজুত থেকে এই ডোজগুলো কঙ্গোকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কঙ্গোতে ইবোলার 'বান্দিবুগিও' (Bundibugyo) স্ট্রেইন বা রূপটি তাণ্ডব চালাচ্ছে। তবে 'এরভেবো' ভ্যাকসিনটি মূলত সাধারণ ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিবন্ধিত হলেও বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এটি কতটা সুরক্ষামূলক, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই ৭০ হাজার ডোজের মধ্যে ২০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন রাখা হয়েছে একটি শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য। এই ট্রায়ালের মাধ্যমে মানবদেহে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাটির কার্যকারিতা ও প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কঙ্গোয় সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৫,২০৮ জন নিশ্চিতভাবে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২,৪৭৬ জন। দুঃখজনকভাবে, বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। তাই কঙ্গো সরকারের বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে এই টিকা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত বাকি ৫০ হাজার ডোজ ব্যবহার করা হবে কঙ্গোর আক্রান্ত এলাকার সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায়, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন।

টিকা পরিবহন এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে তা বিতরণ সহজতর করতে এগিয়ে এসেছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। জেনেভাভিত্তিক ভ্যাকসিন জোট 'গ্যাভি' (Gavi) কঙ্গোতে টিকা পৌঁছানোর জন্য ৭ মিলিয়ন ডলার এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান জোরদার করতে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

ডাব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব এখনো একটি বৈশ্বিক জরুরি সংকট হিসেবে বহাল রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো চিকিৎসা সুবিধা তিনগুণ করা, আক্রান্ত এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ নজরদারি জোরদার করতে একযোগে কাজ করছে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এটি অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল।

Post a Comment

0 Comments