৫০ ছুঁইছুঁই বয়সেও চাবুক ফিগার! মল্লিকা শেরাওয়াতের চিরযৌবনের সেরা 'গোপন মন্ত্র' ফাঁস

মিলেনিয়ামের শুরুতে বলিউডে পদার্পণ করেই ঝড় তুলেছিলেন তিনি। রুপালি পর্দায় ইমরান হাশমির সঙ্গে তাঁর অনবদ্য রসায়ন এবং সহজাত আবেদন তৎকালীন তরুণ প্রজন্মকে রীতিমতো মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। কথা হচ্ছে বি-টাউনের সাহসী অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াতকে নিয়ে। সময়ের সাথে সাথে বলিউড থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে প্রবাসী হলেও, তাঁর সৌন্দর্য ও শারীরিক ফিটনেস আজও ঈর্ষণীয়। ৫০-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও যেভাবে তিনি নিজের শরীর ধরে রেখেছেন, তা দেখে রীতিমতো অবাক হন অনুরাগী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতনরা। সম্প্রতি নিজের এই চিরযৌবন এবং ছিপছিপে শরীরের আসল গোপন রহস্য উন্মোচন করেছেন অভিনেত্রী।

সাধারণত ধারণা করা হয়, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের তারকারা শরীর ধরে রাখতে অত্যন্ত কঠিন কোনো ডায়েট বা চমকপ্রদ ওয়ার্কআউট রুটিন অনুসরণ করেন। তবে মল্লিকা জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত ফল পাওয়ার কোনো ‘ফ্যাড ডায়েট’ বা ট্রেন্ডি জিম রুটিন নয়, বরং তাঁর সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি হলো ‘আয়েঙ্গার ইয়োগা’ (Iyengar Yoga)। দীর্ঘদিনের নিয়মিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যোগচর্চাকেই তিনি নিজের সৌন্দর্যের মূল শক্তি বলে মনে করেন।

৪৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জানান, সাময়িক কোনো শর্টকাটে বিশ্বাসী নন তিনি। শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি ও শৃঙ্খলা প্রয়োজন। বিশ্বখ্যাত যোগাচার্য বি. কে. এস. আয়েঙ্গার উদ্ভাবিত এই ‘আয়েঙ্গার যোগ’ মূলত হঠযোগের একটি বিশেষ ধারা। এই পদ্ধতিতে শরীরের নিখুঁত ভঙ্গিমা (Posture), সঠিক অবস্থান (Alignment) এবং সুরক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। অনুশীলনের সময় যাতে কোনো চোট না লাগে, সেজন্য বেল্ট, ব্লক কিংবা দড়ির মতো সহায়ক প্রপস ব্যবহার করা হয়, যা সব বয়সের মানুষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

দ্রুতগতির সাধারণ এক্সারসাইজের বিপরীতে আয়েঙ্গার যোগে একটি নির্দিষ্ট আসনে কিছুক্ষণ স্থির থাকতে হয়। এর ফলে শরীরের নমনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি পেশির শক্তি ও মানসিক মনোযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ঋষি পতঞ্জলির প্রাচীন যোগসূত্র থেকে অনুপ্রাণিত এই বিশেষ ধারাটি অষ্টাঙ্গ যোগের আটটি দিককে অত্যন্ত সহজ ও কাঠামোগতভাবে সবার সামনে তুলে ধরে।

মল্লিকার ফিটনেস দর্শন কেবল বাহ্যিক কসরতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, মানসিক সচেতনতা, ধৈর্য এবং প্রতিদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই টেকসই ফলাফল এনে দেয়। সাময়িক ডায়েটের পেছনে না ছুটে শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন ও নিয়মিত যোগচর্চাকে আপন করে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ধৈর্য এবং নিয়মনিষ্ঠাই চিরযৌবন ধরে রাখার একমাত্র পথ।

Post a Comment

0 Comments