থাইরয়েড থেকে হতে পারে স্থায়ী অন্ধত্ব! জানুন চোখের এই মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা

থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা আমাদের শরীরের বহু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেই প্রভাবিত করে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, থাইরয়েডের জটিলতা সরাসরি আঘাত হানতে পারে আমাদের দৃষ্টিশক্তিতেও। অটোইমিউন থাইরয়েডের সমস্যায় চোখের পেছনের পেশি, চর্বি ও তন্তু অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এটি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'থাইরয়েড আই ডিজিজ' বলা হয়।

চোখে কীভাবে থাইরয়েডের প্রভাব পড়ে?
থাইরয়েডের অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার কারণে অক্ষিকোটর বা 'আই সকেট'-এ থাকা মাংসপেশিগুলো কয়েক গুণ ফুলেফেঁপে ওঠে। একে বলা হয় 'মায়োপ্যাথি'। ক্রমবর্ধিষ্ণু এই পেশিগুলো একসময় দৃষ্টি পরিবাহী প্রধান স্নায়ু বা 'অপটিক নার্ভ'-এর ওপর মারাত্মক চাপের সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টিশক্তিতে জটিলতা তৈরি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি 'অপটিক নিউরোপ্যাথি' নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক এবং এটি একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা। দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিলে স্থায়ী অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।

অক্ষিকোটরে জায়গার ঘাটতি ও অন্যান্য সমস্যা:
ফুলেফেঁপে ওঠা মাংসপেশি ও অতিরিক্ত চর্বির কারণে অক্ষিকোটরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। ফলে চক্ষুগোলক সামনের দিকে ঠেলে আসে এবং চোখ বাইরের দিকে ঠিকরে বের হয়ে আসে। এই চিকিৎসাগত অবস্থাকে বলা হয় 'প্রোপ্টোসিস'।

অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ:
প্রোপ্টোসিস বা মায়োপ্যাথি ছাড়াও রোগীদের মধ্যে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়—
- ড্রাই আই বা চোখে শুষ্কতা এবং অনবরত খচখচ করা।
- ডাবল ভিশন বা যেকোনো একটি বস্তুকে দুটি দেখা।
- চোখে অতিরিক্ত লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া করা।

রোগের বিস্তার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা:
সাধারণত এই রোগটি প্রথম দুই থেকে তিন বছর সক্রিয় বা ক্রমবর্ধমান অবস্থায় থাকে। তবে পরবর্তী সময়ে এটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।

রোগের প্রাথমিক ও সহনীয় অবস্থায় চোখের শুষ্কতা কাটাতে চিকিৎসকরা 'আর্টিফিশিয়াল টিয়ার' বা ড্রপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে দৃষ্টিশক্তিতে জটিলতা দেখা দিলে বা অপটিক নার্ভে চাপ সৃষ্টি হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন। পরিস্থিতি বেশি জটিল হলে শুধু ওষুধে কাজ হয় না; সে ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি এমনকি অক্ষিকোটরে অস্ত্রোপচার বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। তাই থাইরয়েডের রোগীরা চোখে সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেও অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।

Post a Comment

0 Comments