অর্থবছরের শুরুতেই উন্নয়ন খরচে বড় ধাক্কা: জুলাইয়ে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ১০ মন্ত্রণালয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এই এক মাসে সরকারের অন্তত ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ হওয়া বরাদ্দের একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি। পুরো বছরের জন্য এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রথম মাসে তাদের খরচের খাতা একেবারেই শূন্য। ফলে অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ শতাংশের কোঠাও স্পর্শ করতে পারেনি।

সোমবার (আইএমইডি) বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে এডিপিতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু জুলাই শেষে উন্নয়ন বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। সে হিসাবে অর্থ খরচের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়েও খরচের হার সমান ছিল, তবে তার আগের দুটি অর্থবছরে (২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ১ শতাংশের বেশি হয়েছিল।

তবে সব প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে ছিল না। বরাদ্দের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি খরচ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে সংস্থাটি সোয়া দুই কোটি টাকা খরচ করেছে, যা তাদের মোট বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। এছাড়া সংসদ বিষয়ক সচিবালয় প্রায় ৭ শতাংশ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাড়ে ৫ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

অর্থবছরের শুরুতে কেন এমন স্থবিরতা—এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, সাধারণত জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ চূড়ান্ত করা এবং ক্রয় পরিকল্পনা তৈরিতেই সময় চলে যায়। এরপর দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করতেই অক্টোবর মাস পর্যন্ত গড়ায়। মূলত সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের আসল ব্যয় শুরু হয়, যার কারণে বছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নের হার কিছুটা কম থাকে।

উল্লেখ্য, বর্ষাকালের কারণে অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই ঘাটতি কাটাতে সম্প্রতি সরকার অর্থবছরের সময়কালে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান জুলাই-জুন পদ্ধতির বদলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়কালকে অর্থবছর হিসেবে গণনা করা হবে। বর্ষার আগেই যেন উন্নয়ন কাজ গুছিয়ে এনে কার্যকরভাবে টাকা খরচ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments