রাসায়নিক দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে চট্টগামস্থ বানৌজা ঈসা খান নৌঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যৌথ মহড়া। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ’ শীর্ষক এই অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের আভিযানিক সক্ষমতা ও জরুরি প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত এই বিশেষ অনুশীলনের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন’ (বিএনএসিডব্লিউসি) স্টেকহোল্ডারদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত ‘বেসিক অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড প্রোটেকশন কোর্স ফর রেসপন্ডার্স’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এই বাস্তবসম্মত মহড়া সম্পন্ন হলো।

মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্ঘটনাস্থল দ্রুত নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিষাক্ত বিস্তার রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের পদ্ধতি অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকারী সদস্যদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

অনুশীলন চলাকালে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা, দায়িত্ব বণ্টন এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেন। এর মাধ্যমে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে দেশের সমুদ্রবন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনায় সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি জাতীয় কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।