কসোভোয় মিলল ৩টি গণকবর: অন্তত ২৩ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

কসোভোয় ১৯৯০-এর দশকের রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতের এক নির্মম ও করুণ ইতিহাস আবারও সামনে এসেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে অন্তত তিনটি সম্ভাব্য গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখান থেকে অন্তত ২৩ জন মানুষের মরদেহের অবশিষ্টাংশ ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার কসোভোর সরকারি প্রসিকিউটর, পুলিশ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের বিশেষ দল দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে এসব কঙ্কাল ও অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নিহতদের নাম ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কসোভোর উত্তরাঞ্চলীয় জুবিন পোটোক (Zubin Potok) এলাকায় নিখোঁজ জাতিগত আলবেনীয়দের সন্ধানে মাটি খনন ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি খননস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, উদ্ধার হওয়া এসব অবশিষ্টাংশ মূলত ১৯৯৯ সালের বসন্তে মিত্রোভিকা শহর থেকে জোরপূর্বক অপহরণ ও পরে নৃশংসভাবে হত্যা করা ২৩ জন আলবেনীয় নাগরিকের হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত স্বাধীকারকামী জাতিগত আলবেনীয় বিদ্রোহী এবং তৎকালীন সার্বীয় বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। যুদ্ধ পরবর্তী দুই দশকে কসোভো কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পায়, যেখান থেকে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে দুঃখজনকভাবে এখনও প্রায় ১,৬০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত সব দেহাবশেষ ইতিমধ্যেই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হওয়ায় নমুনাগুলোর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া এই গণকবরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিন স্থানীয় পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেসামরিক সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments