ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনন্য দৃষ্টান্ত: সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘গ্রেগরিয়ান জাদুঘর’

ঢাকার শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মারক সংরক্ষণে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘রক্ষা এবং সংরক্ষণ’ (Protect and Preserve)—এই দূরদর্শী মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দি গ্রেগরিয়ান জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন ‘দি গ্রেগরিয়ান সোসাইটি’ (টিজিএস)-র মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে এমন পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর স্থাপনের নজির এটিই প্রথম। তাই এ উদ্যোগকে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে ঐতিহ্য রক্ষার এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের দীর্ঘ গৌরবময় পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অগুণতি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবদান অপরিসীম। এই দীর্ঘ সময়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন, দুর্লভ আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক নথিপত্র, প্রাচীন শিক্ষা উপকরণ এবং দেশ-বিদেশে অবদান রাখা বিশিষ্ট সাবেক গ্রেগরিয়ানদের স্মৃতিস্মারক সংগ্রহ করে এই জাদুঘরে সযত্নে প্রদর্শন করা হবে।

এই প্রকল্পটির পেছনে রয়েছে একদল একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সাবেক গ্রেগরিয়ানের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও অদম্য চেষ্টা। নিজেদের প্রিয় বিদ্যাপীঠের সোনালী অতীতকে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য অমলিন করে রাখার যে তীব্র তাগিদ তাঁরা অনুভব করেছিলেন, তারই ফলশ্রুতিতে আজ বাস্তবায়নের পথে এই ‘গ্রেগরিয়ান জাদুঘর’।

চুক্তি অনুযায়ী, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল প্রাঙ্গণেই আধুনিক ও সুরক্ষিত অবকাঠামোয় জাদুঘরটি নির্মিত হবে। নির্মাণকাজ ও প্রদর্শনী সাজানোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করে আগামী ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

দি গ্রেগরিয়ান সোসাইটির নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, এই জাদুঘর কেবল অতীতের স্মৃতি ধরে রাখার স্থানই হবে না, বরং তা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাস জানার ও অনুপ্রাণিত হওয়ার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে। নিজ প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার এই মহতী উদ্যোগ দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Post a Comment

0 Comments