ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বিরামপুরে বিশাল প্রচারযাত্রা ও সমাবেশ: আধিপত্যবাদ রোখা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির আহ্বান

দিনাজপুরের বিরামপুরে ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে এক উত্তাল প্রচারযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত থেকে চুক্তির ছয় দফা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক अधिकार কমিটির অন্যতম সদস্য মাহতাব উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বিদেশি আধিপত্যবাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "সীমান্তে নির্বিচারে সাধারণ বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ করা, বিতর্কিত আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি বাতিলের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো আজ অত্যন্ত জরুরি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বভৌমত্বকে তোয়াক্কা না করে নতুন করে সাম্রাজ্যবাদী ও বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য কখনোই মেনে নেবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, ফুলবাড়ীতে পুনরায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সরকারের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাহবুব সুমন। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তা ফুলবাড়ী ও আশেপাশের সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই চুক্তি স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

মাহবুব সুমন আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশের ওপর বিপর্যয় ঠেকাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সবাই সরে আসছে। তাই বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ক্ষতিকর কয়লানির্ভর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি টেকসই জাতীয় জ্বালানি নীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিরামপুরের এই সমাবেশ থেকে বক্তারা পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে বাতিল এবং মূল চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Post a Comment

0 Comments