ফিলিস্তিন নির্বাচন: আব্বাসকে চাপে ফেলতে একাট্টা বিরোধী দলগুলো, 'বিদ্রোহী' দাহলানের সঙ্গে ফাতাহ-র জরুরি বৈঠক

ফিলিস্তিনের আসন্ন সম্ভাব্য আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ফাতাহ আন্দোলন এবং দলটির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন 'ডেমোক্রেটিক রিফর্ম' ব্লকের প্রতিনিধিরা মিশরের আলামিন শহরে এক সংকটময় সমঝোতা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মূলত আব্বাসবিরোধী একটি সর্বদলীয় নির্বাচনী জোট গঠন ঠেকাতেই ফাতাহ এই জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবারের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ফাতাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হামাস, দাহলানের উপদল, প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) যৌথভাবে একটি বড় নির্বাচনী মোর্চা গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। ২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘ দুই দশক পর হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বিরোধী জোটটি ফাতাহর জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আলামিনের বৈঠকে ফাতাহ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির (পিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ এবং ডেমোক্রেটিক রিফর্মের পক্ষে ছিলেন সমীর আল-মাশহারাভি। বৈঠক শেষে মাশহারাভি আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক বললেও জানান, ফাতাহকে একতাবদ্ধ করতে হলে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে ফাতাহর ভেতর থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত নেতাদের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাতাহর প্রধান কৌশল হলো দাহলানকে হামাসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট থেকে নিরপেক্ষ বা আলাদা রাখা। ৯০ বছর বয়সী আব্বাসের বার্ধক্য এবং ফাতাহর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফাতাহর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আশঙ্কা করছেন, দাহলানের প্রত্যাবর্তন আব্বাসের ছেলে ইয়াসির আব্বাসের ক্ষমতা দখলের পথকে সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতি এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাসের আল-কুদওয়ার মতো অসন্তুষ্ট নেতাদের এক জোট হওয়ার ভয়ও রয়েছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের মতো আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর সংস্কারমূলক চাপের কারণেই মূলত আব্বাস শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে হামাসও বেশ কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে দাহলানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে (সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র) কাজে লাগাতে চাইছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার প্রকৃত ঝুঁকি টের পেলে প্রেসিডেন্ট আব্বাস আবারও ২০২১ সালের মতো নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া বা বাতিল করার অজুহাত খুঁজতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments