সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সিলেটে পূর্বঘোষিত সময়েই গড়াচ্ছে সোনাই নদীর নৌকাবাইচ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া সব অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের অবসান ঘটেছে। সব বাধা পেরিয়ে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী শুক্রবারই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই লোকজ উৎসব। গত রাতে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশাসনিক ও সামাজিক সমঝোতা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে সোনাই নদীর বুকে এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন এই সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে এ আয়োজন বন্ধের দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি গোষ্ঠী। ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির পাশাপাশি নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে সভাও করেন।

বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সচেতন সমাজ ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী কোনো গ্রামীণ আনন্দ-উৎসব বন্ধের এমন প্রচেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। উদ্ভূত এই জটিলতা নিরসনে তিনি লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

ইউএনওর নির্দেশনা পাওয়ার পর দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে গত রাতে উপজেলার বারইগ্রাম বাজারে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আয়োজক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অংশ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সব ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে নির্ধারিত দিনেই নৌকাবাইচ আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিয়ানীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ও বাইচপ্রেমীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের এই মেগা আয়োজনকে সফল, দৃষ্টিনন্দন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে জোরকদমে প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments