রাকসু ভবনে হামলা ও নেতাদের মারধরের অভিযোগ: ৫ জনের বিরুদ্ধে জিএস আম্মারের মামলার আবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভবনে হামলা ও তথ্য-গবেষণা সম্পাদকসহ অন্য নেতাদের মারধরের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। অভিযোগপত্রটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাচেষ্টা, সহিংসতা ও ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দাবি আনা হয়েছে।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত মো. আনাস নামে এক যুবক হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করেন। আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে সাকিবের ডান হাতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে মাহিন মেহেদী নামে অপর এক শিক্ষার্থী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মাহফুজুল ইসলাম নয়ন তাঁকে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন, এতে তিনি বাম কানে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন।

মামলা দায়েরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি মূলত নিজেদের নিরাপত্তা ও সচেতনতার অংশ হিসেবে করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার সম্পাদকের ওপর সরাসরি বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে, পরবর্তীতে এ নিয়ে যেন কোনো মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা নোংরা খেলা খেলতে না পারে, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্পাদকদের অন্তর্ভুক্ত করে আমরা মামলার আবেদন করেছি।'

ঘটনার পেছনের ইতিহাস টেনে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই মো. আনাসকে 'ছাত্রলীগ কর্মী' আখ্যা দিয়ে প্রক্টর দপ্তরে মারধর করার অভিযোগ ওঠে সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী রাকসু ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেন ছাত্র সংসদের নেতারা। পরবর্তীতে সেদিন বিকেলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রবেশ করে মাহমুদুল হাসান মাহিন, আবুল হাসান ও আনাসকে দফায় দফায় মারধর করেন রাকসু ও ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট নেতারা।

পরবর্তীতে মারধরের শিকার মো. আনাস ও আবুল হাসান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করে শাহ মখদুম থানা পুলিশ। পরদিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই সালাহউদ্দিন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের ৯ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন মারধরের শিকার মাহমুদুল হাসানের বাবা। ফলে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি মামলা ও সহিংসতায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Post a Comment

0 Comments