তিউনিসিয়ার উপকূলে ৮ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার

তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সমুদ্র থেকে ৮ অভিবাসনপ্রত্যাশীরর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬ জন।

তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ড রোববার জানায়, গত শুক্রবার রাতে জারজিস উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় মোট ১৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার তিনটি এবং রোববার আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটজনে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অভিযান চলছে।

নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে ১৪ জনই তিউনিসিয়ার লিবিয়া সীমান্তবর্তী শহর বেন গেরদানের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। শনিবার রাতে শহরটির বাসিন্দারা এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেন। তারা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য তিউনিসিয়া অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ। দেশটির উপকূল থেকে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে এই পথে অভিবাসীদের মৃত্যু বা নিখোঁজের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই পথে অন্তত ৯১৪ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ২০২৩ সালে তিউনিসিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর একটি চুক্তি করে। এর প্রায় অর্ধেক অর্থ অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানোর কাজে ব্যবহারের কথা ছিল। ইতালির কট্টর ডানপন্থি সরকারও এই চুক্তিকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে অভিবাসীবাহী নৌযান ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা ঠেকানোর সক্ষমতা বাড়ানো।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম

Post a Comment

0 Comments