যে রংপুরে নিরাপদে বড় হয়েছি, সেখানে আজ ভয় কেন?

‘রংপুরের মতো শান্ত একটি শহরে একই পরিবারের চারজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার খবর জানার পর থেকেই মনটা অস্থির হয়ে আছে। ঘটনাটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’

রংপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ এক পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আমার এক স্কুলবন্ধু সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই নিজের উৎকণ্ঠা জানিয়েছে। নিজের শহরেই এখন নিরাপত্তা নিয়ে ভয় লাগছে তার। বিশেষত, যারা একা চলাফেরা করেন, তাদের কথা ভেবে তার আরও বেশি ভয় হচ্ছে।

সেই বন্ধুটির শেষ কথাগুলো এমন—যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন।

বন্ধুর সেই কথাগুলো পড়ে মনটা আর ভার হয়ে গেল। মনে হলো, এই ভয়টা শুধু ওর কিংবা আমার নয়। আমরা যারা রংপুরে বড় হয়েছি, পড়েছি, হেঁটেছি, ঘুরেছি—এই শহরটাকে যারা নিজের মতো করে চিনি, তাদের অনেকের মনেই নিশ্চয়ই একই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এখন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ঢাকায় বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে নিয়মিত অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানানো এক পরিচিতজনের ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়লো। তিনি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার পাশাপাশি মাদক, অপরাধ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশি তদন্তে উঠে আসা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন—‘ঘাতকেরা হত্যার পর গোসল করেছে, আবার মাদক সেবন করেছে, ঘরে থাকা খাবার খেয়েছে, এমনকি লুট করা স্বর্ণ যাচাই করতে আগুনও ব্যবহার করেছে।’

ওই পরিচিতজনের পোস্টটির শেষের একটি প্রশ্ন আমাকে আরও ভাবিয়েছে—‘পুলিশ আসামিদের ধরে আনছে, কিন্তু সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে তো?’ এই প্রশ্নটি শুধু ওই পরিচিতজনের নয়। আমারও। আর এই দুটি ফেসবুক পোস্ট আমাকে বারবার ভাবাচ্ছে—আমরা আসলে কোন সমাজে বাস করছি?

কিছু ঘটনা সংবাদ হিসেবে পড়া যায়, কিছু ঘটনা সংবাদ পড়ার পরও মাথা থেকে সরানো যায় না। এ ঘটনাটি তেমনই। প্রশ্নটি বারবার মনে আসে। যে রংপুরে বড় হয়েছি, পড়াশোনা করেছি, মুক্ত মনে হেঁটেছি, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরেছি—সেই শহরের একটি পরিবারের ঘরে এমন ভয়াবহতা কীভাবে ঘটতে পারে।

আমরা এমন ঘটনায় অভ্যস্ত নই। বরং রংপুরকে আমরা চিনি তুলনামূলক শান্ত, নিরিবিলি ও মানুষের শহর হিসেবে। সেই শহরের একটি পরিবার নিজের ঘরের ভেতরেও নিরাপদ ছিল না—এই উপলব্ধিটাই সবচেয়ে বেশি ভয় ধরিয়ে দেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা মাদক সেবন করেছিল এবং হত্যার পরও কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতে অবস্থান করেছিল। তদন্তে আরও যেসব তথ্য সামনে আসছে, সেগুলো নিঃসন্দেহে শিউরে ওঠার মতো।

তবে এই ঘটনার ভয়াবহতা শুধু চারটি প্রাণ চলে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের সমাজের আরও কিছু গভীর সংকট—মাদক, বখাটেপনা, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, আইনের প্রতি ভয় কমে যাওয়া এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতির দুর্বলতা।

প্রশ্নটা শুধু হত্যাকাণ্ডের নয়

এখন স্বাভাবিকভাবেই আমরা বলছি—খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। অবশ্যই, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু শুধু শাস্তি দিয়ে কি সমস্যার সমাধান হবে?

একজন তরুণ কীভাবে মাদকের কাছে পৌঁছাল? তার পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সমাজ কি তার পরিবর্তনের কোনো সংকেত আগে দেখেনি? এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের খবর থাকলে আমরা কতটা সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করি? একজন বখাটে যখন ছোটখাটো অপরাধ করে, তখন কি আমরা সেটিকে ‘ছেলেমানুষি’ বলে এড়িয়ে যাই না?

হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/ছবি: জাগো নিউজ

অনেক বড় অপরাধের আগে ছোট ছোট অনেক সতর্ক সংকেত থাকে। আমরা সেগুলো দেখতে পাই, কিন্তু গুরুত্ব দিই না।

যে বখাটে আজ কাউকে উত্ত্যক্ত করছে, কাল হয়তো কারও ওপর হামলা করতে পারে। যে ব্যক্তি নিয়মিত মাদক সেবন করছে, সে শুধু নিজের জীবনই নষ্ট করছে না; তার আচরণ পরিবার, প্রতিবেশী এবং পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই অপরাধ ঘটার পর শুধু আসামি ধরার অপেক্ষায় থাকলে হবে না। অপরাধ তৈরির পরিবেশটাকেও মোকাবিলা করতে হবে।

মাদক শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না

মাদককে আমরা অনেক সময় ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কেউ মাদক নেয়—এটা যেন তার নিজের ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মাদক যখন একজন মানুষের বিবেচনাবোধ, নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক আচরণকে নষ্ট করে, তখন তার প্রভাব আর ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

পরিবার ভাঙে, সহিংসতা বাড়ে, অপরাধ বাড়ে, অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান নয়, একটি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ দরকার।

মাদক কোথা থেকে আসছে, কারা সরবরাহ করছে, কারা ব্যবসা করছে, কারা আশ্রয় দিচ্ছে—এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পরিবারকে সহায়তার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

শুধু ব্যবহারকারীকে ধরে জেলে পাঠিয়ে দিলেই সমস্যার শিকড় কাটা যাবে না। মাদকের পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে ভেঙে দিতে হবে।

আমরা নিজেরাই কি সবসময় পাশে দাঁড়াই?

কিছুদিন আগে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমনই এক মাদকাসক্ত ও বখাটে ব্যক্তির অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তি আমার শিক্ষকের বাবার ওপর হামলা করেন। ঘটনায় আমার শিক্ষকও আহত হন।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে গিয়ে আমার শিক্ষককে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। সাংবাদিকতার দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও যতটা সহযোগিতা পাওয়া প্রয়োজন ছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে, ততটা পাওয়া যায়নি।

আরও একটি বিষয় আমাকে ভীষণভাবে ভাবিয়েছে—এমন কঠিন সময়ে একজন মানুষ তার সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকেও যে মানসিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন, সেটিও সবসময় পাওয়া যায় না। এখানেই আমাদের সমাজের আরেকটি বড় সংকট।

আমরা অনেক সময় বিপদে পড়া মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দূর থেকে ঘটনাটি দেখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করি। কয়েকটি পোস্ট দিই। তারপর অন্য ঘটনায় চলে যাই।

কিন্তু বিপদে পড়া মানুষটির তখন দরকার হয় একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একজনের ফোন করা, একজনের সঙ্গে থানায় যাওয়া, একজনের আইনি প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে দেওয়া, একজনের সাহস দেওয়া।

আমরা যদি এই জায়গাটিতে আরও মানবিক হতে না পারি, তাহলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সব দায়িত্ব দিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ তৈরি করা কঠিন।

বিপদ আসার আগেই সতর্ক হতে হবে

নিরাপত্তা মানে শুধু পুলিশ থাকবে, অপরাধী ধরা পড়বে—এটা নয়। নিরাপত্তা মানে এমন একটি সমাজ, যেখানে একজন মানুষ বিপদে পড়ার আগেই সাহায্য চাইতে পারেন। যেখানে প্রতিবেশী সন্দেহজনক কিছু দেখলে দায়িত্বশীলভাবে জানাবেন। যেখানে মাদক বিক্রেতাকে এলাকার সবাই চেনে, কিন্তু ভয় বা সুবিধার কারণে কেউ মুখ বন্ধ করে থাকবে না।

প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ থাকতে হবে।

শুধু কোনো হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে গেলে হবে না। মাদক ও কিশোর অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। অভিযোগ জানানোর সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিশেষ করে যারা একা চলাফেরা করেন, নারী, বয়স্ক মানুষ এবং একা বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদাভাবে ভাবতে হবে।

পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব আছে

মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধের কাজ শুধু পুলিশের নয়। পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। সন্তানের আচরণে হঠাৎ বড় পরিবর্তন, সন্দেহজনক বন্ধুত্ব, মাদক গ্রহণের লক্ষণ, সহিংস আচরণ কিংবা পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলোকে অবহেলা করা যাবে না।

শনিবার রাতে নিজ বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়/ছবি: জাগো নিউজ

একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা ক্লাস নেওয়া যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং মূল্যবোধ নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হবে।

একজন তরুণকে অপরাধী হয়ে যাওয়ার পর সংশোধনের চেষ্টা করার চেয়ে অপরাধের পথে যাওয়ার আগেই তাকে ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কার্যকর।

আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে

আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—বিচার পাওয়া সহজ এবং দৃশ্যমান হতে হবে। কোনো মানুষ হামলার শিকার হওয়ার পর যদি থানায় যেতে ভয় পান, মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন, দীর্ঘদিন ঘুরতে হয় কিংবা প্রভাবশালী কারও কারণে ন্যায়বিচার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা কমে যায়।

তাই প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা, ভুক্তভোগীকে সম্মানজনক আচরণ করা এবং তদন্তের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যত বড় বা যত ছোট হোক—আইনের চোখে তার পরিচয় একটাই: সে একজন অভিযুক্ত। আর ভুক্তভোগী যে-ই হোন, তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সমান।

রংপুরকে আমরা কেমন দেখতে চাই?

আমি যে রংপুরকে চিনি, সেখানে সন্ধ্যার পরও মানুষ স্বস্তিতে হাঁটতো। পরিচিত মানুষকে দেখলে দাঁড়িয়ে কথা বলতো। প্রতিবেশীর বিপদে প্রতিবেশী ছুটে যেতো। শহরটি হয়তো সব সমস্যামুক্ত ছিল না, কিন্তু মানুষের মধ্যে একটা নিরাপত্তাবোধ ছিল।

আমরা সেই রংপুরকেই ফিরে পেতে চাই। আমরা এমন রংপুর চাই না, যেখানে নিজের ঘরেও মানুষ নিরাপদ বোধ করবে না। আমরা এমন সমাজ চাই না, যেখানে মাদকাসক্ত একজন বখাটের ভয়ে একটি পরিবার আতঙ্কে থাকবে। আমরা এমন সমাজও চাই না, যেখানে বিপদে পড়লে একজন মানুষকে একাই লড়াই করতে হবে।

আমরা চাই—অপরাধীকে ভয় করবে অপরাধ, সাধারণ মানুষ নয়। আমরা চাই—মাদকের কারবারি ও সরবরাহকারীরা আইনের আওতায় আসুক, তরুণরা মাদকের হাত থেকে দূরে থাকুক। আর সবচেয়ে বেশি চাই, বিপদে পড়লে মানুষ পুলিশ, প্রশাসন, পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও প্রতিবেশী সবার সহযোগিতা পাবে।

রংপুরের এই হত্যাকাণ্ড আমাদের কাঁদিয়েছে। আমাদের ভয় পাইয়েছে। কিন্তু এই ভয় যেন শুধু কয়েকদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

মাদকবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা, অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগ, পুলিশের জবাবদিহি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং সবচেয়ে বড় কথা—একটি দায়িত্বশীল সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই নিরাপদ সমাজ তৈরি হতে পারে।

আমরা এমন ঘটনায় অভ্যস্ত হতে চাই না। আমরা এমন শহর চাই না। আমরা ভয় নিয়ে বাঁচতে চাই না। আমরা শান্তি চাই। নিরাপদে ভালো থাকতে চাই।

আর, এই ভয়াবহতা যেন আমাদের শুধু কাঁদিয়ে না যায়। ভাবায়, বদলায় এবং আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।

লেখক: সংবাদকর্মী

এমডিএএ/এমকেআর

Post a Comment

0 Comments