গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এপি সাংবাদিক মরিয়ম নিহত হওয়ার এক বছর: আজও ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় বাবা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী বিমান হামলায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক মরিয়ম দাগা নিহত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, দীর্ঘ একটি বছর অতিক্রান্ত হলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা বিচার হয়নি। মরিয়মের শোকার্ত বাবা রিয়াদ দাগা এখনো ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল গাজার খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালে। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় মরিয়ম দাগা প্রাণ হারান। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের ভয়াবহ পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের আর্তনাদ এবং চিকিৎসার অভাবে রোগীদের মৃত্যুযন্ত্রণা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই ছিল মরিয়মের মূল কাজ। কিন্তু সেই সত্য প্রকাশ করতে গিয়েই তাঁকে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিতে হয়।

মরিয়মের বাবা রিয়াদ দাগা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, "আমার মেয়ে কোনো যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেনি, সে কেবল সত্যটা পৃথিবীর সামনে আনতে চেয়েছিল। হাসপাতালের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় জানা সত্ত্বেও তাকে হত্যা করা হলো, যার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে না। আজ পুরো এক বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ আমরা এখনো বিচারের মুখ দেখিনি। কোনো তদন্তের অগ্রগতি নেই, অভিযুক্তদেরও শাস্তি দেওয়া হয়নি।"

গাজায় চলমান সংঘাতে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধে রেকর্ড সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালে হামলা চালানো এবং সাংবাদিকদের নিশানা করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো।

মরিয়ম দাগার প্রয়াণের এক বছরপূর্তিতে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। রিয়াদ দাগার একটাই আকুল আবেদন—তিনি যেন বেঁচে থাকতেই মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দেখে যেতে পারেন। তাঁর এই কণ্ঠস্বর কেবল একজন শোকাহত পিতার নয়, বরং গাজায় সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে নিহত সমস্ত নির্ভীক সাংবাদিকের পরিবারের আকুতিরই প্রতিধ্বনি।

Post a Comment

0 Comments