যুক্তরাজ্য উপকূলে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: বাবা-মা ও বোনের পর মারা গেল ৬ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুটিও

যুক্তরাজ্যের সাসেক্স উপকূলে সমুদ্রে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ফিলিস্তিনি-ব্রিটিশ পরিবারের শেষ সদস্য, ৬ বছর বয়সী শিশু সাজা আল-খাওয়াসও না ফেরার দেশে চলে গেল। কয়েক দিন আগেই একই দুর্ঘটনায় সমুদ্রের পানিতে ডুবে তার বাবা-মা এবং ১৪ বছর বয়সী বড় বোনের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার শিশুটির মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সাসেক্স পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র তাপদাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে লন্ডন থেকে সাসেক্সের শোরহ্যাম সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিল পরিবারটি। গত মঙ্গলবার সমুদ্রের পানিতে নেমে সাঁতার কাটার সময় তারা হঠাৎ বিপদের মুখে পড়ে। পানিতে ডুবে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাজার বাবা হাসান আল-খাওয়াস (৫৫), মা জাইনা আলাইন (৩৭) এবং বোন সারা আল-খাওয়াস (১৪)। সেখান থেকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশু সাজাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তবে চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সাসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি 'অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'ডেইলি টেলিগ্রাফ'-এর প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের বরাতে জানানো হয়, এই পরিবারটির মূল শিকড় ছিল দক্ষিণ লেবাননের জনবহুল 'রাশিদিয়াহ' ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে। সাজার বাবা হাসান আল-খাওয়াস পূর্বে ওই শিবিরে বসবাস করতেন এবং পরবর্তীতে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্মরণে 'প্যালেস্টাইন ফোরাম ইন ব্রিটেন'-এর উদ্যোগে একটি বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেকর্ড তাপদাহে পুড়ছে পুরো ইউরোপ। গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে নদী ও সমুদ্রসৈকতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের একাধিক দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এক নিমেষেই একটি পুরো ফিলিস্তিনি পরিবারের এমন করুণ বিলুপ্তি সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments