
ফরাসি উপনিবেশের অবসান ঘটেছিল ছয় দশক আগে, কিন্তু আলজেরিয়ার সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থায় ফরাসি ভাষার আধিপত্য এতদিনেও থেকে গিয়েছিল বজায়। তবে এবার সেই ঐতিহাসিক সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি। আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলজেরিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম প্রধান বিদেশি ভাষা হিসেবে ফরাসি ভাষার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে ইংরেজি। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রধান বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখা শুরু করবে, আর ফরাসি ভাষাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে চতুর্থ শ্রেণীতে।
প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন ২০২২ সালে যে ভাষাগত সংস্কারের কথা বলেছিলেন, এটি তারই সবচেয়ে বড় এবং কার্যকরী পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই আলজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদে ফরাসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি পরিষেবা বিল, এয়ার আলজেরিয়ার টিকিট এবং রাস্তার সংকেতচিহ্ন থেকেও ফরাসি ভাষা সরিয়ে ইংরেজি যুক্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংস্কারের এই প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করছে ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এর প্রতিবাদে আলজেরিয়া ফরাসি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। রাজনৈতিক এই উত্তেজনার ফলেই ফরাসি ভাষার আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতি পায়।
তবে এই বিশাল পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছু পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। দেশটির শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত এবং দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।
আলজেরিয়ার এই পদক্ষেপ আফ্রিকায় ফরাসি ভাষার ক্ষীয়মাণ প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালি, নাইজার ও বুর্কিনা ফাসোর মতো দেশগুলোও ফরাসি ভাষার বৈশ্বিক জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফ্রাঙ্কোফোনি বা ফরাসি সাংস্কৃতিক বলয় ভেঙে আলজেরিয়ার তরুণ প্রজন্ম এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে ইংরেজির দিকেই বেশি ঝুঁকছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই ভাষাগত রূপান্তর দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।
প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন ২০২২ সালে যে ভাষাগত সংস্কারের কথা বলেছিলেন, এটি তারই সবচেয়ে বড় এবং কার্যকরী পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই আলজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদে ফরাসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি পরিষেবা বিল, এয়ার আলজেরিয়ার টিকিট এবং রাস্তার সংকেতচিহ্ন থেকেও ফরাসি ভাষা সরিয়ে ইংরেজি যুক্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংস্কারের এই প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করছে ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এর প্রতিবাদে আলজেরিয়া ফরাসি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। রাজনৈতিক এই উত্তেজনার ফলেই ফরাসি ভাষার আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতি পায়।
তবে এই বিশাল পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছু পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। দেশটির শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত এবং দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।
আলজেরিয়ার এই পদক্ষেপ আফ্রিকায় ফরাসি ভাষার ক্ষীয়মাণ প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালি, নাইজার ও বুর্কিনা ফাসোর মতো দেশগুলোও ফরাসি ভাষার বৈশ্বিক জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফ্রাঙ্কোফোনি বা ফরাসি সাংস্কৃতিক বলয় ভেঙে আলজেরিয়ার তরুণ প্রজন্ম এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে ইংরেজির দিকেই বেশি ঝুঁকছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই ভাষাগত রূপান্তর দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

0 Comments