ফারহান ফাইয়াজকে যখন রিকশায় ওঠাই , তখন সে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে: জবানবন্দিতে সাক্ষী সাইদ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রিকশায় উঠিয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মো. সাইদ হোসেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমি ফারহানকে যখন রিকশায় ওঠাই, তখন সে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে। সম্ভবত তখনই সে মারা যায়।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ মঙ্গলবার এই জবানবন্দি দেন সাইদ হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় এদিন জবানবন্দি দেন সাইদ হোসেন।

সাইদ হোসেন ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে তাঁরা ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে রাপা প্লাজার সামনে জড়ো হন। আগের দিন মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে এই স্থানে তাঁদের জড়ো হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন। হঠাৎ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ তাঁদের ওপর অতর্কিতভাবে গুলি করে। তাঁরা আত্মরক্ষার্থে বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নেন। গুলি থামলে তাঁরা আবার রাস্তায় নেমে আসেন।

সাইদ হোসেন বলেন, ‘বেলা আনুমানিক ২.০০/২.৩০টার দিকে আমার সামনে একটি ছেলে ঘুরে পড়ে যায়। আমিসহ আন্দোলনকারীরা তাকে একটি গলিতে নিয়ে যাই।

হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি তাকে কোলে করে একটি রিকশায় উঠি। একটু সামনে গিয়ে কয়েকজন আন্দোলনকারীর সহযোগিতায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিই। আমি আবার আন্দোলনে যোগ দিই। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে ওই ছেলের নাম ফারহান ফাইয়াজ।…সে গুলি খেয়ে মারা গেছে। ফারহানের বাবার কাছ থেকে শুনতে পেয়েছিলাম যে ফারহানের বুকের বাঁ পাশে গুলি লেগেছিল।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন—শেখ হাসিনা, তাপস ও নানকদের নির্দেশনায় ফারহান ফাইয়াজসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে সাইদ হোসেন বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চান তিনি।

এই মামলার মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।

Post a Comment

0 Comments