
নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ধাক্কায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ধসে পড়া অর্থনীতিকে সামাল দিতে এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে তেল সরবরাহের সামর্থ্য এখন সরকারের আর নেই বললেই চলে। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে দেশে নতুন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে—এমন শঙ্কায় বেশ সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অর্থনৈতিক চাপের হুমকির পর মুক্তবাজারে ইরানের মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ রিয়ালে। এই চরম মন্দার মধ্যেই জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে তেহরান।
সম্প্রতি এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় ইরানে জ্বালানি তেলের দাম অবিশ্বাস্য রকমের কম। বর্তমানে শোধনাগার থেকে উৎপাদিত প্রতি লিটার পেট্রোলে সরকারের খরচ হয় ১৩ লাখ রিয়াল (প্রায় ৬৫ সেন্ট), অথচ সাধারণ মানুষের জন্য সর্বনিম্ন স্তরের মূল্য নির্ধারণ করা আছে মাত্র ১৫ হাজার রিয়াল (১ সেন্টেরও কম)। এছাড়া আরও দুটি দামে (৩০ হাজার ও ৫০ হাজার রিয়াল) পেট্রোল দেওয়া হলেও তা সরকারের কোষাগারের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে ইরানে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার, যার বিপরীতে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের শক্তি অপটিমাইজেশন প্রধান ইসমাইল সাঘাব-ইসফাহানি ৩টি সম্ভাব্য কৌশলের কথা জানিয়েছেন:
১. জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা, কিন্তু পাম্পের বরাদ্দকৃত তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া।
২. গাড়ি থাকুক বা না থাকুক—দেশের প্রতিটি নাগরিককে প্রতি মাসে ৩০ লিটার ভর্তুকিযুক্ত তেল দেওয়া (যার গাড়ি নেই, সে চাইলে তা বিক্রি করতে পারবে)।
৩. জ্বালানির দাম সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা বাজারভিত্তিক করা (প্রতি লিটার প্রায় ৮ লাখ ৭২ হাজার রিয়াল)। কিন্তু এতে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়ে দেশজুড়ে চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।
ইরানে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বরাবরই সংবেদনশীল। ২০১৯ সালেও তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশজুড়ে নজিরবিহীন সহিংস আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। দেশটির সাধারণ মানুষের মতে, বেতন ও আয় না বাড়লেও যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় পেট্রোলের দাম নতুন করে বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অর্থনৈতিক চাপের হুমকির পর মুক্তবাজারে ইরানের মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ রিয়ালে। এই চরম মন্দার মধ্যেই জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে তেহরান।
সম্প্রতি এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় ইরানে জ্বালানি তেলের দাম অবিশ্বাস্য রকমের কম। বর্তমানে শোধনাগার থেকে উৎপাদিত প্রতি লিটার পেট্রোলে সরকারের খরচ হয় ১৩ লাখ রিয়াল (প্রায় ৬৫ সেন্ট), অথচ সাধারণ মানুষের জন্য সর্বনিম্ন স্তরের মূল্য নির্ধারণ করা আছে মাত্র ১৫ হাজার রিয়াল (১ সেন্টেরও কম)। এছাড়া আরও দুটি দামে (৩০ হাজার ও ৫০ হাজার রিয়াল) পেট্রোল দেওয়া হলেও তা সরকারের কোষাগারের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে ইরানে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার, যার বিপরীতে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের শক্তি অপটিমাইজেশন প্রধান ইসমাইল সাঘাব-ইসফাহানি ৩টি সম্ভাব্য কৌশলের কথা জানিয়েছেন:
১. জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা, কিন্তু পাম্পের বরাদ্দকৃত তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া।
২. গাড়ি থাকুক বা না থাকুক—দেশের প্রতিটি নাগরিককে প্রতি মাসে ৩০ লিটার ভর্তুকিযুক্ত তেল দেওয়া (যার গাড়ি নেই, সে চাইলে তা বিক্রি করতে পারবে)।
৩. জ্বালানির দাম সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা বাজারভিত্তিক করা (প্রতি লিটার প্রায় ৮ লাখ ৭২ হাজার রিয়াল)। কিন্তু এতে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়ে দেশজুড়ে চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।
ইরানে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বরাবরই সংবেদনশীল। ২০১৯ সালেও তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশজুড়ে নজিরবিহীন সহিংস আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। দেশটির সাধারণ মানুষের মতে, বেতন ও আয় না বাড়লেও যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় পেট্রোলের দাম নতুন করে বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

0 Comments