বিশ্বকাপ ফাইনালে বিশৃঙ্খলা: ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ আর্জেন্টিনার পারেদেস, চড়া জরিমানা ফিফার

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিকভাবে চড়াও হওয়ার অপরাধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটির তারকা মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর পাশাপাশি দলের আরও দুই ফুটবলার ও এক কোচকে বিভিন্ন মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।

ফাইনালে হারের পরপরই ক্ষোভ সামলাতে না পেরে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং তরুণ মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন পারেদেস। মাঠে অনভিপ্রেত এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে তাকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি অন্যতম কঠোর শাস্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও চিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার অপরাধে উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে সব ধরনের ফুটবল থেকে চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফিফার নির্ধারিত ম্যাচ সূচি অনুযায়ী, এই শাস্তির ফলে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় এক বছর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না পারেদেস।

পারেদেসের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তরুণ ফুটবলার থিয়াগো আল মাদাকে ১ ম্যাচ এবং কোচিং স্টাফের সদস্য সাবেক তারকা রোবার্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুজনকেই ৩০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে স্পেনের গাভিকেও ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন নেশনস লিগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না।

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও (এএফএ) বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের বর্ণবাদী স্লোগানের দায়ে এএফএকে ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ণবাদ বিরোধী প্রকল্পে অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার খরচের বাধ্যবাধকতা দিয়েছে ফিফা। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা এই শাস্তির বিরুদ্ধে ফিফার আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করার সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, ওই উত্তপ্ত ফাইনাল ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিয়ে শিরোপা উৎসব করে স্পেন।

Post a Comment

0 Comments