নাটকে ফেরা, অপূর্বসঙ্গ এবং নাগরিক প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা শার্লিন ফারজানা

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ছোট পর্দায় ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নাটকে ফেরা, সহশিল্পী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব’র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন এই তারকা।

সহশিল্পী হিসেবে অপূর্বর ভূয়সী প্রশংসা করে শার্লিন জানান, অপূর্ব ভাইয়ের কাজের নিজস্ব একটি মান রয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ। শুটিংয়ের সেটে মেকআপ, লুক কিংবা সহশিল্পীদের সঠিক ক্লোজ শট নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে অপূর্ব সবসময়ই বাড়তি যত্ন নেন। শুটিং ফ্লোরে অন্য শিল্পীদের জন্য তিনি যে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করেন, তার কারণে যেকোনো অভিনয়শিল্পীই খুব নির্বিঘ্নে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়ে যাবেন।

ছোট পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে শার্লিন বলেন, নাটক দিয়েই তাঁর ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু। ফলে নাটকের প্রতি তাঁর একটি আলাদা টান ও ভালোবাসা সবসময়ই ছিল। তাঁর মতে, পুরো এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নাটক তৈরি হয়। পাকিস্তানি কিংবা ভারতীয় বিভিন্ন সিরিজের চেয়েও আমাদের দেশের নাটকের সৌন্দর্য আলাদা, যা অনেক সময় সিনেমাতেও পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। সিনেমায় কাজের কারণে তাঁর কাজের গতি কিছুটা কমেছিল, তাই নাটকে ফিরে আসাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আবার ফ্লেক্সিবিলিটি ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। এখন থেকে প্রতি মাসে মানসম্মত অন্তত ২-৩টি নাটকে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

মাঝখানে দুটি সিনেমায় কাজ করার কারণে ক্যামেরায় নিজের লুক ও ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন শার্লিন। সিনেমাতে কালার কারেকশন বা পোস্ট-প্রোডাকশনের সুযোগ থাকলেও নাটকে সেই সুযোগ কম থাকে। তবে সহশিল্পী অপূর্বর ইতিবাচক আশ্বাস এবং প্রথম দিনের শট দেখার পর তাঁর সেই দ্বিধা দূর হয়ে যায়।

শুধু বিনোদন নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও নিজের সাধারণ চাওয়ার কথা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, মেগা প্রকল্প বা বড় জাঁকজমকপূর্ণ অবকাঠামোর চেয়েও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা অনেক বেশি জরুরি। শিক্ষার প্রসার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, যানজট ও লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করার জোর দাবি জানান তিনি। শার্লিনের বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনে এই স্বস্তিটুকু নিশ্চিত করা গেলে আগামী প্রজন্ম এই দেশেই একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

Post a Comment

0 Comments