দামেস্কের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আহত একাধিক, তীব্র নিন্দা জানায় সিরিয়া

দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার দামেস্কের গ্রাম্য এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ভয়াবহ ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বায়ত জিন শহরের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এতে একটি ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের চালক সহ একাধিক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিরীয় কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অবশ্য হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা এক 'সন্ত্রাসীকে' লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে, যে তাদের বাহিনীর ওপর তাৎক্ষণিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে বলা হয়, একটি বেসামরিক যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ। ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে সিরিয়ার ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, গত চার দিন ধরে বায়ত জিন এলাকার আকাশে ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। শনিবার বায়ত জিন কৃষি জমি থেকে প্রধান শহরে যাওয়ার পথে একটি ছোট ডেলিভারি ট্রাকে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্লেখ্য, রাজধানী দামেস্ক থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বায়ত জিন এলাকায় গত এক বছর ধরে বারবার আক্রমণ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।

সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল বর্তমানে দক্ষিণ সিরিয়াকে তাদের নিজস্ব 'সুরক্ষা অঞ্চল' (সিকিউরিটি জোন) হিসেবে গণ্য করছে। তারা সিরীয় সরকারের কাছে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা পাঠাতেই এই ধরনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে স্থল অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়ার পর থেকে তারা ড্রোন হামলার ওপর বেশি নির্ভর করছে। তবে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও দামেস্ক জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা হ্রাস করতে আগ্রহী এবং মার্কিন মধ্যস্থতায় ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী একটি নিরাপত্তা সমঝোতায় পৌঁছাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments