নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই হোয়াইট হাউসে ১ বছর! ট্রাম্পের ‘ছায়াসঙ্গী’ নাটালিকে ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত সহকারী নাটালি হার্পকে নিয়ে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে মার্কিন প্রশাসনিক অঙ্গনে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) ছাড়াই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসের সংবেদনশীল দফতরে কাজ করেছেন ৩৫ বছর বয়সী নাটালি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়েস্ট উইংয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতো নিয়ম মেনে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন সম্পন্ন করতে অনিচ্ছুক ছিলেন নাটালি। সিক্রেট সার্ভিস ও প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করার পর নাটালি ‘এসএফ-৮৬’ নামের প্রয়োজনীয় ফরমে তথ্য প্রদান করেন। এই ফরমে আবেদনকারীর আর্থিক ইতিহাস, পূর্বের বসবাসের ঠিকানা ও বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের সংবেদনশীল বিবরণ দিতে হয়।

হোয়াইট হাউসের বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য প্রশাসনিক এই গাফিলতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, "অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতোই নাটালির কাছেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে। তিনি ট্রাম্পের দলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।" তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের ওপর নাটালির অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব ও অবাধ যাতায়াত সীমিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোপনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যা নাটালির জেদের কারণে ব্যর্থ হয়।

ডানপন্থী 'ওয়ান আমেরিকা নিউজ'-এর সাবেক উপস্থাপক নাটালি হার্প মূলত ট্রাম্পের সবচেয়ে প্রভাবশালী ‘গেটকিপার’ বা মূল তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়েই যেকোনো তথ্য সরাসরি ট্রাম্পের টেবিলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন নাটালি এবং ট্রাম্পের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি নাটালির এমন অন্ধ আনুগত্য ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে বহু প্রশ্ন উঠেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, একবার ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে নাটালি আবেগঘন ভাষায় লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" অন্য একটি চিঠির শেষে তিনি লিখেছিলেন, "আমার পুরো হৃদয় দিয়ে, নাটালি।" এমনকি নাটালির নিজের ভাইও (যাঁদের মধ্যে অবশ্য যোগাযোগ নেই) একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বোনের এই সম্পর্ককে "অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর" বলে অভিহিত করেছিলেন।

সম্প্রতি ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে তুরস্ক থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি মার্কিন সামরিক বিমানে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা স্বল্পসংখ্যক সফরসঙ্গীদের মধ্যেও দেখা যায় নাটালিকে। এ নিয়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ এক রাজনৈতিক সমাবেশে কটাক্ষ করে বলেন, "ট্রাম্প তো মূল দায়িত্ব পালন করতে চান না, তিনি কেবল নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।"

তবে এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিএনএনের ভাষ্যকার স্কট জেনিংস বলেন, নাটালি একজন মেধাবী ও যোগ্য নারী। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর মেধা ও দক্ষতাকে অস্বীকার করে কুৎসিত গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাটালি হার্পকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতি এখন সরগরম।

Post a Comment

0 Comments