চুয়েটে তীব্র গ্যাসসংকট: লাকড়ির চুলায় রান্না, না খেয়েই ক্লাসে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাসসংকট। সংযোগে গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে। এতে যেমন সময়মতো খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি তীব্র ধোঁয়া ও অতিরিক্ত গরমে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক ভোগান্তি। অনেক সময় খাবার তৈরি হতে দেরি হওয়ায় না খেয়েই ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর খাবার তৈরি করা হয়। তবে গ্যাসসংকটের কারণে এখন হলের ডাইনিংগুলোতে খাবারের পদের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাকড়ি জ্বালিয়ে এত বিপুল পরিমাণ মানুষের রান্না করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বাবুর্চি ও কর্মচারীরা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ভেজা কাঠ দিয়ে রান্না করতে গিয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। কাঠের ধোঁয়া ও তাপে হলের আশপাশের কক্ষগুলোতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ক্যাম্পাসের ক্যানটিন ও শিক্ষকদের আবাসিক এলাকাতেও। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও খাবার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। ক্যানটিনগুলোতে বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে গিয়ে ইজারাদারদের খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে, আবাসিক এলাকার শিক্ষকেরাও সারাদিন গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোসাম্মাত রোকসানা খাতুন বলেন, ‘সারা দিন গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হওয়া প্রয়োজন।’

সার্বিক বিষয়ে চুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ও পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেকুল আলম জানান, মূলত মাতারবাড়ী থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সাময়িক এবং জাতীয় পর্যায়ের এই সমস্যার সমাধান হলেই চুয়েটে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Post a Comment

0 Comments