সিলেটে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, সমঝোতার চেষ্টায় প্রশাসন

সিলেটের বিয়ানীবাজারে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। সোনাই নদীতে আয়োজিত এই গ্রামীণ লোকজ উৎসবটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় একটি পক্ষ। বিপরীতে, দীর্ঘদিনের এই আনন্দ-আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর আয়োজক কমিটি ও উৎসবপ্রেমী সাধারণ মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় যাতে কোনো আইনশৃঙ্খলাজনিত অবনতি না ঘটে, সে লক্ষ্যে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় বিগত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে নিয়মিত এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি বড় ষাঁড় গরু এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছাগল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার দুপুরের মধ্যে অংশ নিতে ইচ্ছুক নৌকাগুলোর নাম নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে আয়োজক কমিটি।

তবে সম্প্রতি বারইগ্রাম বাজার মসজিদে আয়োজিত একটি সভার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের আড়ালে জুয়ার আসর বসানো হতে পারে, যা তরুণ সমাজকে নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি নদীর পাড় ভেঙে যাওয়া, কৃষকের ফসল বিনষ্ট হওয়া এবং যানজট সৃষ্টির মতো অজুহাতও দাঁড় করান তারা। তা ছাড়া অতীতে এমন আয়োজনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির নজির রয়েছে দাবি করে তারা নৌকাবাইচটি বন্ধ করার জোর আহ্বান জানান।

তবে এসব দাবি অস্বীকার করে আয়োজক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম জানান, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ এই সুন্দর ঐতিহ্যটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তা বন্ধের পাঁয়তারা করছে। কিন্তু এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এবং লাউতা ইউনিয়নের বিশিষ্টজনেরা নৌকাবাইচ আয়োজনের পক্ষে রয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি অবসান ঘটিয়ে নির্ধারিত সময়েই সফলভাবে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হচ্ছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ বের হবে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, ঐতিহ্যগতভাবে সেখানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হলেও আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করা সবচেয়ে জরুরি। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতীত কোনো আয়োজন করা সম্ভব নয়। এলাকার সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments