রাকসুর ৬১ লাখ টাকার হিসাব গায়েব! ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ বসাল ছাত্রদল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পর খরচসংক্রান্ত বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগে ক্যাম্পাসে শোরগোল পড়ে গেছে। রাকসু প্রতিনিধিদের এই আর্থিক অনিয়ম ও জবাবদিহিহীনতাকে কটাক্ষ করে এক ব্যতিক্রমী ও ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে রাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডকে খোঁচা দিয়ে সাজানো হয় একাধিক ব্যঙ্গাত্মক স্টল। আয়োজনের আকর্ষণ বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি রাকসু প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গাত্মক গানও বাজানো হয় প্রাঙ্গণজুড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র সূত্রে জানা গেছে, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসুর প্রতিনিধিরা মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, উত্তোলন করা অর্থের মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বৈধ খরচের বিল বা ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব না মেলায় বৃহস্পতিবার রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ছাত্রদল। এরপর মাইকিং করে এই ব্যঙ্গাত্মক মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, আটটি ভিন্ন ভিন্ন স্টলে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও লেখা দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে—‘ভিপি-জিএসের নাশতার বিল সম্পর্কিত ভাউচার’, ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার’, ‘সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার’, ‘নেপাল ট্যুর ভাউচার’, ‘কাওয়ালি দলের ভাউচার’ এবং ‘রাকসু গেম ভাউচার’। মেলার ভেতরে টাকার লকারের আদলে আঁকা ছবির ওপর লেখা ছিল—‘সবার হিসাব মিলে, আমার হিসাব মিলে না’।

আয়োজকদের ভাষ্য, রাকসু প্রতিনিধিরা তহবিল থেকে টাকা নিলেও তার কোনো উপযুক্ত খরচ দেখাতে পারছেন না। তাই তাঁদের এই ভুয়া ভাউচার বানানোর কাজকে সহজ করতেই মজার ছলে এ মেলার আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান বলেন, “রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটির বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি, এখন ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়েছে। তাঁদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে, তবে সাহায্য করতেই এই আয়োজন।” বিজয়নগর-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসানও অবিলম্বে এই খরচের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান।

Post a Comment

0 Comments