
টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম খুলে উদ্বেগ (Anxiety), এডিএইচডি (ADHD) কিংবা মানসিক ট্রমা লিখে সার্চ করলেই এখন স্ক্রিনে ভেসে ওঠে হাজারো কনটেন্ট। লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্টরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল পরিভাষা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন, দূর করছেন নানা ভুল ধারণা। ক্লিনিকে আবদ্ধ থাকার দিন বদলে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার পেজেই চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রাথমিক পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগের পাশাপাশি অনেকে আবার নিজেদের পেড কোর্স, বই বা ব্যক্তিগত চেম্বারের প্রচারও চালাচ্ছেন এসব প্ল্যাটফর্মে।
বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক সংকটই মানুষকে ডিজিটাল মাধ্যমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশে প্রতি ২ লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন। এছাড়া বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ সঠিক চিকিৎসা পান। যুক্তরাজ্যে এডিএইচডি মূল্যায়নের জন্য রোগীদের বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়। চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ, পেশাদার চিকিৎসকের অভাব এবং সামাজিক লজ্জার কারণে একটি বিশাল গোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক সেবা থেকে বঞ্চিত।
এই সুযোগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জনপ্রিয়তা হু-হু করে বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিকটকে ‘#MentalHealth’ হ্যাশট্যাগযুক্ত ভিডিওর ভিউ ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী ড. জোনাথন শেডলার আল জাজিরাকে বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কনটেন্টের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক 'থেরাপিস্ট ইনফ্লুয়েন্সার'-এর অনুসারী এখন কোটি ছাড়িয়েছে।"
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞানকে 'গণতান্ত্রিক' করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সক্ষমতা যা-ই হোক না কেন, মানুষ বিনামূল্যে মানসিক রোগ সম্পর্কে জানতে পারছে, যা তাদের সামাজিক লজ্জা কাটিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সাহায্য করছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মাধ্যমগুলো একটি নিরাপদ কমিউনিটি হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নেটদুনিয়ার জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যা কখনোই চিকিৎসকের প্রকৃত যোগ্যতা বা দক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে না। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম তথ্যের নির্ভুলতার চেয়ে 'লাইক ও ভিউ'-কে বেশি প্রাধান্য দেয়। এর ফলে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বিপজ্জনক 'সেলফ-ডায়াগনোসিস' বা নিজেই নিজের রোগ নির্ণয় করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এছাড়া ইনবক্সে ব্যক্তিগত পরামর্শ চাওয়ার ফলে পেশাগত সীমানাও লঙ্ঘিত হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতা তৈরি এবং প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে চমৎকার একটি সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রমাণভিত্তিক প্রকৃত থেরাপির বিকল্প নয়। প্ল্যাটফর্মগুলোতে সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচার নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক সংকটই মানুষকে ডিজিটাল মাধ্যমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশে প্রতি ২ লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন। এছাড়া বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ সঠিক চিকিৎসা পান। যুক্তরাজ্যে এডিএইচডি মূল্যায়নের জন্য রোগীদের বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়। চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ, পেশাদার চিকিৎসকের অভাব এবং সামাজিক লজ্জার কারণে একটি বিশাল গোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক সেবা থেকে বঞ্চিত।
এই সুযোগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জনপ্রিয়তা হু-হু করে বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিকটকে ‘#MentalHealth’ হ্যাশট্যাগযুক্ত ভিডিওর ভিউ ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী ড. জোনাথন শেডলার আল জাজিরাকে বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কনটেন্টের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক 'থেরাপিস্ট ইনফ্লুয়েন্সার'-এর অনুসারী এখন কোটি ছাড়িয়েছে।"
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞানকে 'গণতান্ত্রিক' করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সক্ষমতা যা-ই হোক না কেন, মানুষ বিনামূল্যে মানসিক রোগ সম্পর্কে জানতে পারছে, যা তাদের সামাজিক লজ্জা কাটিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সাহায্য করছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মাধ্যমগুলো একটি নিরাপদ কমিউনিটি হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নেটদুনিয়ার জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যা কখনোই চিকিৎসকের প্রকৃত যোগ্যতা বা দক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে না। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম তথ্যের নির্ভুলতার চেয়ে 'লাইক ও ভিউ'-কে বেশি প্রাধান্য দেয়। এর ফলে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বিপজ্জনক 'সেলফ-ডায়াগনোসিস' বা নিজেই নিজের রোগ নির্ণয় করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এছাড়া ইনবক্সে ব্যক্তিগত পরামর্শ চাওয়ার ফলে পেশাগত সীমানাও লঙ্ঘিত হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতা তৈরি এবং প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে চমৎকার একটি সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রমাণভিত্তিক প্রকৃত থেরাপির বিকল্প নয়। প্ল্যাটফর্মগুলোতে সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচার নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

0 Comments