রাজনৈতিক আনুগত্যের পরীক্ষা! ন্যাটো মিত্রদের কাছে পেন্টাগনের দীর্ঘ প্রশ্নমালা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পররাষ্ট্রনীতির প্রতি ন্যাটো মিত্রদের অনুগত্য কতখানি, তা পরীক্ষা করতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের এক দীর্ঘ প্রশ্নমালা পাঠিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার হাতে আসা একটি গোপন নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

তিন পৃষ্ঠার এই নথিতে খুব স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে ন্যাটো মিত্ররা 'প্রকাশ্যে সমর্থন' দিচ্ছে কি না। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের 'ন্যাটো ৩.০' (NATO 3.0) নীতির সঙ্গে তারা একমত কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। এই নীতির মূল কথা হলো—ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিজেদেরই বেশি নিতে হবে এবং সেখানে মার্কিন সহায়তা হবে অত্যন্ত সীমিত।

নথির সবচেয়ে রাজনৈতিক সংবেদনশীল প্রশ্নগুলো রয়েছে শেষভাগে। সেখানে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর কোনো দেশ কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কি না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক সংঘাতের পর স্পেনসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ মার্কিন সামরিক তৎপরতায় নিজেদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পেন্টাগনের প্রশ্নমালায় সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই দেশগুলো এসব বিধিনিষেধ বাতিল করতে ইচ্ছুক কি না।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নথি থেকেই স্পষ্ট যে ট্রাম্প প্রশাসন ন্যাটো সামরিক জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক অভিযানেও ইউরোপীয় মিত্রদের সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউরোপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পেন্টাগনের এই প্রশ্নমালার মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটনের নীতি মেনে চলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা। যে দেশগুলো হোয়াইট হাউসের সাথে পুরোপুরি একাত্মতা প্রকাশ করবে না, ভবিষ্যতে সেখান থেকে মার্কিন সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে স্পেনের ওপর সামরিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্পেন এতে অস্বীকৃতি জানালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বাণিজ্য বন্ধের হুমকি পর্যন্ত দেন। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা জিম টাউনসেন্ড মন্তব্য করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্ক রক্ষা করার ক্ষেত্রে আনুগত্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকেও সেই আনুগত্য নিশ্চিত করতেই পেন্টাগন এই নজিরবিহীন পথ বেছে নিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments